Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪,

আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতা চায় জামায়াত

আবদুর রহিম

জুন ৪, ২০২৩, ১১:৫১ পিএম


আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতা চায় জামায়াত
  • ভিসানীতিতে আওয়ামী লীগ-জামায়াত কেউ খুশি নয় 
  • ঢাকায় দুটো বিক্ষোভ থেকে আসবে ভোটের কর্মসূচি  
  • আ.লীগ-বিএনপির দুর্বলতায় মাঠ দখলের টার্গেট 
  • আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য প্রার্থীদের পরিচিত করা

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি, ভিসানীতিকে ওয়েলকাম করি না
—ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নায়েবে আমির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় জামায়াতে ইসলামী। সেই দরজা বন্ধ হয়ে গেলে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে দলটি।  জামায়াতে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, সমপ্রতি মার্কিন ভিসানীতিতে আওয়ামী লীগ যেমন সন্তুষ্ট নয় তেমনি জামায়াতে ইসলামীও খুশি নয়। 

তারা বলছে, আমরা দলীয়ভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ওয়েলকাম জানাইনি। জামায়াত মনে করছে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে সোজা করতে কারো হস্তক্ষেপ অবশ্যই গণতন্ত্র সৌন্দর্য নয়। নিজস্ব পলিসি নিজেরাই বসে ঠিক করা উত্তম। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বার্থে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে রাজি। আন্দোলনের মাধ্যমে সংঘাত তৈরি হোক এটি জামায়াতে ইসলামী চায় না। দেশের এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন অবশ্যই সরকারের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসবে না। আর সরকার যদি আলোচনার পথে না হাঁটে তা হলে নির্দিষ্ট ছকেই ঢাকাসহ সারা দেশে নেতাকর্মীদের  মুক্তি, নিত্যাপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখবে রাজনীতিতে আলোচিত এই দলটি। আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। ৫ জুন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলটি গতকাল রাজধানীর একটি মিলনায়তনে পেশাজীবীদের নিয়ে সমাবেশ করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। এর আগে গত ২৯ মে দলটির চার আইনজীবী ডিএমপিতে অনুমতি নিতে গেলে তাদের আটক করা হয়। তাৎক্ষণিক জামায়াতের পক্ষ থেকে পুলিশের শীর্ষ দুজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে বিবৃতি দেয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে মুক্তিও দেয়া হয়। এ নিয়ে তখন পুলিশের ভাষ্য ছিল— চার নেতা গোপন বৈঠকে ছিল। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনুমতি ছাড়া কেউ সমাবেশ করতে পারবে না। জামায়াত নিবন্ধিত দল নয়। এ নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত জানায়,  রাজনীতি করার জন্য সভা-সমাবেশ করার জন্য দলের নিবন্ধন প্রয়োজন নেই। ইলেকশন কমিশনের রেস্ট্রিকশন ফেক্টর না। নির্বাচন করার জন্য পার্লামেন্টে প্রতীকের জন্য নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন আছে। তাদের যে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে সেটি বৈধ নয়। নিবন্ধন বাতিল প্রক্রিয়া ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। খুব শিগগিরই রেজিস্ট্রেশন ফিরিয়ে দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলেও জানায় দলটি। জানা গেছে, শেষ  বেলায়ও যদি নির্দিষ্ট স্থানে কর্মসূচি করতে না পারে তাহলে রাজধানীর দুটো স্থানে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ করতে পারে দলটি। সেখান থেকে নির্বাচন পর্যন্ত একটা কর্মসূচিরও ইঙ্গিত দেয়া হতে পারে।

দলটির আরো কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন বিএনপি থেকে জামায়াত দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। কোনো কার্যকর আন্দোলন এখনো পর্যন্ত করতে পারেনি। তাই এবার দুটি ফসল ঘরে তুলতে চায় দলটি। প্রথমত, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের বিদায় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিশ্চিত করা।  দ্বিতীয়ত, কর্মসূচি দিয়ে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকা। নিজেদের প্রার্থীদেরকে জনগণের কাছে পরিচিত করা।  গেলো ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টার করে দলটি। রুকন বৈঠকের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো হচ্ছে প্রচারণা। সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিজ নিজ আসনে কৌশলে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জামায়াত মনে করছে, আওয়ামী লীগ ভিসানীতির পর চাপে রয়েছে আর বিএনপি কার্যত কর্মসূচির পথে না হেঁটে কূটনৈতিক দরবারে ঘুরে বেলা শেষে অতীতের মতো যেকোনো সময় ব্যর্থ হতে পারে। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখে ভোটের মাঠ গোছানোর কাজেই ব্যস্ত থাকতে চায় দলটি। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমরা এখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা খুবই জরুরি। তাই আমি সরকারকে এখনো আলোচনায় বসতে আহ্বান জানাব গণমাধ্যমের মাধ্যমে। আর যদি সেটি না হয় তাহলে সরকারকে নামাতে আন্দোলনে যেতে আমরা বাধ্য হবো। আমরা মনে করি, সরকার নামতে বাধ্য হবে। সব সময় এক রকম যায় না। পরিস্থিতি এখন আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনার খুঁটি হচ্ছে পুলিশ, শেখ হাসিনার খুঁটি হচ্ছে র?্যাব। আমরা জামায়াতে ইসলামী আমেরিকার ভিসানীতিকে ওয়েলকাম করি না। আমরা চাই না বাইরের কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করুক। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশটিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, এখন আমেরিকাও ভিসানীতি দিয়ে আমাদের সোজা করার চেষ্টা করছে। এ নীতি পুরো জাতিকে অপমান করেছে। শুধু ক্ষমতা থাকার লোভের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ সাবেক এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘মিটিং মিছিল করার জন্য কোনো পারমিশন প্রয়োজন নেই, রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই। আমাদেরকে বাধা দেয়া মানে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে বাধা দেয়া। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়া মানে অধিকারে বাধা দেয়া। মানবাধিকারে  বাধা দেয়া। জামায়াতকে কর্মসূচিতে বাধা দেয়া মানে আমেরিকার সব নির্দেশনাকে উপেক্ষা করা। কর্মসূচিতে বাধা দিলে সব পরিস্থিতির জন্য পুলিশ দায়ী থাকবে।’

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক দল। একাধিকবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল। আমাদের সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে। সরকারে যদি আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় তাহলে এ দেশের মানুষের রায় অবশ্যই সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। দেশ রক্ষার জন্য আমরা সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে আহ্বান করব। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিয়ে সোজা পথে আসার অনুরোধ করব। সরকার যদি শান্তিপূর্ণভাবে সরে যায় অন্তত বিরোধী দল হয়েও রাজনীতি করতে পারবে। আর যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে হয়তো সেই সুযোগও হারিয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেয়া দল। একটি দলের সব সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকে, আমাদেরও রয়েছে।’

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘১০ দফার ভেতরেই লেখা আছে সরকারের পদতাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন। এটিই এক দফা। যেহেতু সময় বেশি নেই। মূল দাবি আদায়ে সামনে কর্মসূচি ধীরে ধীরে আরও বাড়বে। আমরা আমাদের নেতাদের মুক্তি দাবিতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ও কেয়ারটের সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্দোলন চালিয়ে যাব। সরকারের যদি শুভবুদ্ধির উদয় হয় তাহলে গণআন্দোলনের আগেই সাবধান হবে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, জামায়াতকে অনেক দিন ধরেই সড়কে ভোরবেলা হঠাৎ করে মিছিল বের করতে দেখা গেছে। তারা পুলিশের ওপরও হামলা করেছে, পুলিশকে মারপিট করেছে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, তারা আসলে আলোচনায় থাকতে চায়। ৫ জুন সমাবেশের নামে তাদের আসল উদ্দেশ্য কী— আমরা জানি না। তবে আমরা প্রতিটি জায়গা নজরদারিতে রাখব। যাতে অবৈধ সমাবেশের নামে তারা যান-মালের ক্ষতি করতে না পারে। 
 

Link copied!