Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ, ২০২৪,

নির্বাচনেই মনোযোগ আ.লীগের

সৈয়দ সাইফুল ইসলাম

নভেম্বর ৯, ২০২৩, ১২:৩১ এএম


নির্বাচনেই মনোযোগ আ.লীগের
  • বিরোধীদলগুলোকে মোকাবিলা করবে রাজনৈতিকভাবে
  • সংলাপ বা সমঝোতার কোনো চিন্তা আপাতত নেই
  • বিরোধীদের বড় জমায়েত করতে দেবে না আ.লীগ
  • সার্বক্ষণিক রাজপথ পাহারায় থাকবে নেতাকর্মীরা

টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করছে। দলটির এখন প্রধান টার্গেট বাধা অতিক্রম করে জাতীয় নির্বাচন করিয়ে নেয়া। রাজপথে থাকা প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় সরকারের অধীনে ভোট না করার আন্দোলনে রয়েছে।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন দেখিয়ে দলটি এই আন্দোলনের গতি সঞ্চার করেছে। এরপর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্ররা যুগপৎ এবং ধারাবাহিক আন্দোলনে রয়েছেন। তাদের টার্গেট নির্বাচনে যাওয়ার কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার অধীনে তারা ভোটে অংশ নিতে কোনোভাবেই রাজি নয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগেরও টার্গেট নির্বাচনে যাওয়ার, কিন্তু তারা কোনোভাবেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের পক্ষে নয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের যুক্তি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই দলীয় সরকারের অধীনে ভোট হয়। আর সে কারণে দলটি বর্তমান সংবিধানে থাকা দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের বিকল্প ভাবছে না। আওয়ামী লীগ যেকোনোভাবেই হোক দলীয় সরকারের অধীনে ভোটেই মনোযোগী। বিরোধী দলের নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে করা আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এগোচ্ছে দলটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে কিছুই ভাবছে না। তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসতে হলেও সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো চিন্তাই করছে না। কারণ, আওয়ামী লীগ মনে করে, নির্বাচন কমিশন এখন আগের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং স্বাধীন, ফলে কমিশন সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে সক্ষম। এই যুক্তিকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি স্পষ্ট করে বলছে, বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া বাকি সব দেশই নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থেকে ভোট সম্পন্ন করে।  আওয়ামী লীগ এখন বিএনপি বা অন্য কোনো বিরোধী দলের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার কোনো প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করে না। তারা এখন কিভাবে নির্বাচনের তরি পার হওয়া যায় তা নিয়ে বেশি মনোযোগী। দলটির সামনে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করেই দলটি নির্বাচনি তরি পার হতে চাইছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মনে করেন, বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবিলায় রাজপথে পাল্টা প্রস্তুতিই যথেষ্ট। বিগত দিনে রাজপথে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে যত কর্মসূচি দেয়া হয়েছে সব কর্মসূচির দিনেই পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে ছিল ক্ষমতাসীনরা। আগামী দিনেও বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে মাঠে যত ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে সব কর্মসূচির দিন মাঠে সক্রিয় থাকবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। যাতে বিরোধী দলগুলো বড় ধরনের কোনো গণজমায়েত করতে না পারে সে বিষয়ে দলটি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 

এদিকে দলটির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখন নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সক্রিয় থাকছেন, যাতে বিরোধী দল আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে। ফলে ঢাকার বাইরে তৃণমূলেও আওয়ামী লীগের অবস্থান এখন দৃঢ়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা এখনো তৃণমূলে রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দলটির তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকলেও দলীয় প্রধান নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের পক্ষে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশনার আলোকে দলটির তৃণমূল এখন অনেকটাই সক্রিয়। 

এদিকে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে শর্তহীন সংলাপ করতে উভয়পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন। পিটার হাসের এই আহ্বানের পরপরই এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সংলাপ করতে চাইলে সরকার এতে রাজি আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই বক্তব্যের পর বেশ কিছু দিন ধরে এ নিয়ে রাজনীতিকরা কোনো কথা বলেননি। বিশ্লেষকরা এখনো সংলাপের সময় শেষ হয়ে যায়নি বলে উল্লেখ করলেও বিরোধীয় দুটি পক্ষ এখনো অনমনীয়। 

গত মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে বলেন এখনো সময় আছে সমঝোতা করে সরে পড়ার। অবশ্য এমন কোনো চিন্তাই লালন করছে না আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মনে করেন, বিএনপি এখন যা (হরতাল-অবরোধ) করছে তাতে এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে সংলাপ বা কোনো আলোচনার দরকার আছে বলে তিনি মনে করেন না। আমার সংবাদের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের কোনো চিন্তা আপাতত আওয়ামী লীগের নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে দলীয় অবস্থান কি হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
 

Link copied!