ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অপরিকল্পিত ইউটার্ন-স্থাপনায় দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ৬, ২০২৫, ১১:২০ পিএম

অপরিকল্পিত ইউটার্ন-স্থাপনায় দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক

অপরিকল্পিত ইউটার্ন ও স্থাপনা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ করে তুলেছে। অথচ ওই মহাসড়কটি দেশের লাইফলাইন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় ১১টি ইউটান অতিক্রম করতে হয়। আর তার অধিকাংশই হোটেল-রেস্তোরাঁ কিংবা পেট্রলপাম্প ঘিরে করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছাকাছি পাঁচটি বাস টার্মিনাল ও ১৪টি বাজারের অবস্থানে রয়েছে। অপরিকল্পিত ওসব ইউটার্ন ও স্থাপনা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ করে তুলেছে। পরিবহন খাত এবং হাইওয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক বছরেই ঘটেছে ৫৯৮টি বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ওই মহাসড়কের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষজ্ঞরা ইউটার্ন, হাটবাজার ও যত্রতত্র বাস টার্মিনালের মতো অপরিকল্পিত স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার তাগাদা দিয়েছেন। 

বাংলাদেশের জাতীয় মহাসড়কের সংখ্যা ৬৭টি এবং আঞ্চলিক মহাসড়কের সংখ্যা ১২১টি। ওসব মহাসড়কের যান চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশ পালন করে থাকে। 

সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি যানবাহনকে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় সর্বমোট ৪৮টি স্থানে। তার মধ্যে ১৩টি ইউটার্ন রয়েছে। দাউদকান্দি ব্রিজে ওঠার আগে পশ্চিম প্রান্তে বাউশিয়া পাখির মোড়ে প্রথম ইউটার্নটির অবস্থান। তার মাত্র নয় কিলোমিটার পরই মানাবে পার্কের সামনে আরেকটি ইউটার্ন রয়েছে। কিছুদূর এগোলেই বাউশিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের (ইপিআই) সামনে এবং ভবেরচর আলিফ কাচ্চি হোটেলের সামনে আরো দুটি ইউটার্ন রয়েছে। তারপর আনারপুরা, বালুয়াকান্দি সরদার তেল পাম্পের সামনে এবং নুরজাহান হোটেলের সামনে পরপর তিনটি ইউটার্ন রয়েছে। তার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই আলেখারচর এবং নাজিরাবাজারে আরো দুটি ইউটার্ন রয়েছে। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সর্বশেষ ইউটার্নটির অবস্থান কুমিরা রয়েল গেট এলাকায়। ইউটার্নের পাশাপাশি হাট-বাজার এবং বাস টার্মিনালগুলোরও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ করে তেলার পেছনে দায় রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মদনপুর, সাইনবোর্ড, চিটাগং রোড, সীতাকুণ্ড, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পাঁচটি বাস টার্মিনাল রয়েছে। 

সূত্র আরো জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছাকাছি ১৪টি বাজার রয়েছে। সেগুলো হলো ইলিয়টগঞ্জ বাজার, মাধাইয়া বাজার, চান্দিনা বাজার, সুয়াগাজী বাজার, নাজিরাবাজার, নিমসার বাজার, মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজার, বাবুর্চি বাজার, বারৈয়ারহাট বাজার, মিরসরাই বাজার, বাড়বকু্ল বাজার, বাঁশবাড়িয়া বাজার এবং ছোট কুমিরা বাজার। এছাড়া এ মহাসড়কের কাঁচপুর মোড়, মদনপুর, মোগরাপাড়া, যাত্রামুড়া, ভাটেরচর নতুন রাস্তা লিংক রোডের মাথা, ক্যান্টনমেন্ট মোড়, বড় দারোগারহাট ওজন স্কেল, কেডিএস ডিপো ঘোড়ামারা এবং বিএম ডিপো মদনহাটের রয়েছে সংযোগ সড়ক। তাছাড়া ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ভটভটি, নসিমনের মতো অনিবন্ধিত যানবাহনের চলাচল ঘিরে।

গত ২২ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি লরি উল্টে নিচে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের চার যাত্রী নিহত হন। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য। পদুয়ার বাজার ইউটার্নে উল্টো পথে চলা এক প্রাইভেট কার হানিফ পরিবহনের একটি বাস ও অটোরিকশা হঠাৎ সামনে চলে এলে চালক লরির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে লরিটি উল্টে যায়। তাতে ওই প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাইভেট কারে থাকা চারজন নিহত হন। 

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে বাস, জিপ ও প্রাইভেট কারের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। কিন্তু অনেক সময়ই চালকরা ১০০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে গাড়ি চালায়। ভারী গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে মোটরসাইকেল, যার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া ব্যস্ততম মহাসড়কের যান চলাচলে অপরিকল্পিত ইউটার্ন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও হাট-বাজার অনেক বেশি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ওসব স্থাপনার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তুলতে হলে ওসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি ইউটার্ন এবং সংযোগ সড়ক কমিয়ে আনতে হবে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (মিডিয়া) শামসুল আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে চলতি মাসের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ৫৯৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে ৪৬৭টি যানবাহন জব্দ ও ৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আর বিভিন্ন বিভিন্ন অপরাধে যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে ২৯ হাজার ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ৯৪টি দুর্ঘটনা ঘটে। তার মধ্যে ৭৫টি যানবাহন জব্দ ও আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা দেয়া হয়েছে ৪ হাজার ৫১৯টি। তবে নিয়মিত প্রসিকিউশন অব্যাহত রাখার পরও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে নিরাপদ করে তোলা যায়নি। 

এর বড় কারণ মহাসড়কটির খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকা হাট-বাজার, রেস্তোরাঁ ও বাস টার্মিনালগুলো। পাশাপাশি ওই মহাসড়কে দুর্ঘটনার বড় কারণ অতিরিক্ত ইউটার্ন এবং সংযোগ সড়কগুলো।

Link copied!