ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

মো. নেয়ামত উল্যাহ

মো. নেয়ামত উল্যাহ

জুন ২৮, ২০২৬, ১২:১০ এএম

বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড এখন আর কেবল একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয় বহনকারী সাধারণ কোনো দলিল নয়, বরং এটি নাগরিক জীবনের প্রতিটি জরুরি ও মৌলিক সেবা প্রাপ্তির প্রধান চাবিকাঠি।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা প্রাপ্ত্তি- সব ক্ষেত্রেই এনআইডি অপরিহার্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশালসংখ্যক নাগরিকের এনআইডি কার্ডের তথ্য হালনাগাদ না থাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড ব্যবহারের কারণে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় নানাবিধ জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহল এবার অত্যন্ত কঠোর ও যুগোপযোগী একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যার অধীনে সব নাগরিকের জন্য ‘এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক’ করা হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উৎকর্ষতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় এই ডাটাবেজকে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও আধুনিক রাখা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি রোধ, আর্থিক জালিয়াতি দমন এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার পর মেয়াদোত্তীর্ণ বা হালনাগাদবিহীন এনআইডি কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে, যার ফলে নাগরিকরা দৈনন্দিন বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

প্রাথমিক স্তরে এই নবায়ন প্রক্রিয়া চালুরক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ডাটাবেজ সংস্কারের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। তবে এই বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্তের পেছনে যেমন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নটি জড়িত, তেমনি সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের শঙ্কা ও হয়রানির ভয়ও উঁকি দিচ্ছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা বাড়তি ভোগান্তি ছাড়াই সহজে তাদের পরিচয়পত্র নবায়ন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই হবে এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাধ্যতামূলক এনআইডি নবায়নের এই নতুন রূপরেখা দেশের সামগ্রিক সুশাসন ও ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিতকে কতটা মজবুত করবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৫ বছর একটি দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মানুষের শারীরিক গঠনে, বিশেষ করে মুখাবয়বে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এছাড়া আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে অনেকে সার্জারির মাধ্যমে জেন্ডার পরিবর্তন বা চেহারা পরিবর্তন করছেন।

এছাড়া বয়সের কারণে মানুষের আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক ফিচারের গুণমান হ্রাস পেতে পারে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই এনআইডি ডাটাবেজ হালনাগাদ রাখা এবং নাগরিকের পরিচিতি শতভাগ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, এনআইডির মেয়াদ প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর। একই আইনের ধারা ২ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বা পরে নবায়নের জন্য নাগরিককে নির্ধারিত ফি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ বিধি অনুযায়ী, নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফরম-৫ পূরণ করে অনলাইনে অথবা সরাসরি আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীকে তার বায়োমেট্রিক ফিচার (আঙুলের ছাপ, হাতের ছাপ, আইরিশ, মুখাবয়ব ইত্যাদি) পুনরায় প্রদান করতে হবে। বর্তমান নিয়মে জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে সাত দিন এবং সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ দিন সময়ের মধ্যে এনআইডি নবায়ন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

বর্তমানে এনআইডি হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে যে প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হয়, সেখানে ফি তুলনামূলক বেশি। এছাড়া সেই প্রক্রিয়ায় তথ্যের বা ছবির আপডেট করা হয় না, কেবল কার্ড পুনর্মুদ্রণ করা হয়। ইসি কর্মকর্তারা মনে করছেন, নবায়ন প্রক্রিয়াটি বাধ্যতামূলক করলে কার্ডের ছবি, আঙুলের ছাপসহ যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্য আধুনিকায়ন হবে, যা নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘১৫ বছর পর মানুষের চেহারায় যে পরিবর্তন আসে, তাতে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থেকে যায়। আমরা বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছি এবং এ নিয়ে নথিপত্র তৈরি করা হচ্ছে।’ একটি বড় আলোচনার বিষয় হলো নবায়নের ফি। বর্তমান নিয়মে দ্বিতীয়বার আবেদনের ক্ষেত্রে ফি অনেক বেশি, কিন্তু কমিশনের ভাবনা হলো, নবায়ন প্রক্রিয়াটি যেন সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে। এমনকি ফি ছাড়াই এটি করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এনআইডি মহাপরিচালক এএইচএম আনোয়ার পাশা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি নাগরিক সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। সঠিক তথ্যভাণ্ডার ও নবায়নকৃত বায়োমেট্রিক ডাটা থাকলে সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। বিশেষ করে জালিয়াতি রোধে এই নবায়ন ব্যবস্থা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের তথ্যের নিরাপত্তা এবং সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার এই উদ্যোগ সময়ের দাবি। এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং আধুনিক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অন্যতম অংশ। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে এবং সহজতর প্রক্রিয়ায় নাগরিকরা এই সুবিধা পেলে দেশের পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী ও ত্রুটিমুক্ত হয়ে উঠবে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Link copied!