নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৭, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
রাজধানীর সূত্রাপুরে তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক যুবক হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রাপুর থানা পুলিশ।
শুক্রবার রাত ১টা থেকে শনিবার সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি তিনজন আইনের দৃষ্টিতে শিশু।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সূত্রাপুর থানার বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল বের হয়। মিছিলটি সূত্রাপুর হয়ে চকবাজার, লালবাগ পেরিয়ে ধানমন্ডির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে বাংলাবাজার অতিক্রম করার সময় পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে কয়েকজন যুবক এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।
খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। তার নাম মো. জাকির হোসেন (৩১)। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সূত্রাপুর থানার একাধিক দল শুক্রবার রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মো. রাশেদ (২০) এবং আরও তিনজন শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি চাপাতি এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত বলে ধারণা করা পোশাকও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরা নিয়ে নিহত জাকির হোসেনের সঙ্গে তাদের প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তারা জাকিরকে ধাওয়া করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক চারজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এএন