আমার সংবাদ ডেস্ক
ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম
যুব নেতৃত্ব ও নাগরিক সম্পৃক্ততাকে শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো দুদিনব্যাপী ‘জাতীয় যুব সম্মেলন-২০২৫’। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের উদ্যোগে ঢাকার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রাঙ্গণে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “নিজের কণ্ঠ জোরালো করো, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দাও”।
গত ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের ৩৯টি জেলার ৩০০ জন যুবনেতা অংশ নেন। আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুব নেতৃত্ব ও সম্মিলিত উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করা এবং একটি ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’ গঠনের ভিত্তি তৈরি করা। এই প্ল্যাটফর্মটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের কণ্ঠস্বর জোরালো করতে কাজ করবে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনের মাধ্যমে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের প্রথম দিনে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় স্বপ্না রানী, মোছা. সাগরিকা এবং কোহাতি কিস্কু অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। স্বপ্না রানী বলেন, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে নিজেকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। সাগরিকা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে লক্ষ্যে স্থির থাকার পরামর্শ দেন। কোহাতি কিস্কু সফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দ্বিতীয় দিনে ‘ইনস্পিরেশন টক’ সেশনে পর্বতারোহী ও সাংবাদিক মুসা ইব্রাহিম বলেন, কোনো কাজই ছোট নয়; জ্ঞান সমৃদ্ধ করে নেতৃত্ব দেওয়াই আসল কাজ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, তরুণদের মতামত শোনার জন্য এ ধরনের নেটওয়ার্ক ভবিষ্যৎ উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা তরুণদের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক জিনাত আরা বলেন, পরিবার থেকে শুরু হওয়া সুন্দর পৃথিবী গড়ার যাত্রায় তরুণদের সম্মিলিত দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সমাজসেবা অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার বলেন, যুবকদের হাতেই শিশুদের জন্য পৃথিবী বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
সম্মেলনের শেষ দিনে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায়ন বিভাগের পরিচালক তানিয়া শারমিন একটি অঙ্গীকার সেশন পরিচালনা করেন। এতে অংশগ্রহণকারী যুবনেতারা আগামী ছয় মাসের জন্য নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা লিখে দেন।
সমাপনী বক্তব্যে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহ বলেন, তরুণদের এই সন্ধিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক জ্ঞান ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গঠনে আমরা নিয়মিত তাদের কণ্ঠস্বর শুনতে চাই, কারণ তাদের দৃষ্টিভঙ্গিই আগামীর পথ দেখাবে।
জেএইচআর