ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজপথে সাত কলেজ, সায়েন্স ল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধে স্থবির

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজপথে সাত কলেজ, সায়েন্স ল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধে স্থবির

ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট, সায়েন্স ল্যাব মোড় এবং মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। এর ফলে মিরপুর সড়কসহ রাজধানীর বিশাল একটি অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন জনভোগান্তি।

রাজপথে মিছিল ও স্লোগান পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি নীলক্ষেত হয়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয়। একই সময়ে মিরপুর রোডের অন্য প্রান্ত টেকনিক্যাল মোড়ে অবস্থান নেন সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

অবরোধস্থলে ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে এ সময় প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, ‘আমরা বিচার চাই’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’।

চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবরোধে মিরপুর সড়কের আজিমপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে। তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর ১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকাতেও। গণপরিবহন না পেয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। 

সাভার থেকে গুলিস্তান যাওয়ার পথে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আটকে পড়া মো. হানিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেল। যার যেখানে খুশি রাস্তা আটকে দিচ্ছে। দেশে কি কোনো সরকার আছে? মানুষের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অনেক অভিভাবককে কোলের শিশুকে নিয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তোলে।

কেন এই আন্দোলন? আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০১৭ সালে কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই এই সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করায় তারা দীর্ঘ সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতার শিকার হচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন বা অধ্যাদেশ জারিতে বিলম্ব হচ্ছে। 

কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন, আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানব না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যতক্ষণ অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে না, আমরা রাজপথ ছাড়ব না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ও খসড়া অধ্যাদেশ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশের একটি পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

প্রক্রিয়া অনুযায়ী, খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি যাচাই শেষে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। জানা গেছে, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোটি হবে অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। কলেজগুলো তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ‘সংযুক্ত’ থাকবে। তবে শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

অন্যান্য মোড়েও উত্তেজনা শুধুমাত্র সাত কলেজ নয়, আজ রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরাও সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের এক সহপাঠী হত্যার বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা রাজপথে নামেন। গতকালও রাজধানীর পাঁচটি পয়েন্টে দীর্ঘ সময় অবরোধ থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছিল। 

আজ নতুন করে এই অবরোধ ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা গেলেও তারা কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা, সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।

জেএইচআর

Link copied!