নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
রাজধানীর শাহবাগে আবারও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে এবং বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভকে ঘিরে সেখানে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের সংস্থার কাছে হস্তান্তরের দাবিতে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ চলছিল। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কাঁটাবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান। পুলিশ বর্তমানে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে।
বর্তমানে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অনেকে আহত হন।
বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
ইএইচ