আমার সংবাদ ডেস্ক
মার্চ ১০, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সংক্রান্ত এক জরুরি সভা মঙ্গলবার ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমন্বিত এ সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি এবং সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিক কমিটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত সড়কের পাশে থাকা সব অবৈধ টিকিট কাউন্টার নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে নোটিশ প্রদান করে অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
টার্মিনালের ভেতরে প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর অনুকূলে নির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে টিকিট কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কাজে বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার না করে বাসগুলোকে নির্ধারিত পাঁচটি বাস-বে ব্যবহার করতে হবে। যাত্রী ওঠানামার জন্য কোনো বাস সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে পারবে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে নতুন তথ্যকেন্দ্র (ইনফরমেশন ডেস্ক) এবং মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কক্ষ স্থাপন করা হবে। ঈদযাত্রার আগেই টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ শেষ করা, শৌচাগার মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সমাগম বৃদ্ধির সুযোগে কোনো পরিবহন যাতে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতিকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
টার্মিনালের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে অপসারণের দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগকে দেওয়া হয়েছে, যাতে সড়কের যানজট কমানো সম্ভব হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, “ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, বাস মালিক ও শ্রমিক সবাই একসঙ্গে কাজ করবে। যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।”
এদিকে নতুন প্রশাসকের সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনা কমিটির দ্বাদশ বোর্ড সভাও একই দিন বিকেলে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বোর্ড সদস্যরা প্রশাসককে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন।
এএন