Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২২ মে, ২০২৪,

তাঁরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান!

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

এপ্রিল ৭, ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম


তাঁরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান!

ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো প্রবাদ বুঝেনা এমন কেউ নাই। আজ আপনাদের সত্যিকারের ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এমন কিছু যুবকদের পরিচয় করিয়ে দিবো। তাঁরা একটি মফস্বল শহরের অধিকাংশ পুরুষ প্রবাসী ও ব্যবসায়ী। তাই মফস্বলটি ধনী এলাকা হিসেবে পরিচিত।

বলতে গেলে খুবই কম সংখ্যক বেকার রয়েছে।আর পবিত্র রমজান মাসে বেকার খুঁজে পাওয়া যায়না। ঠিক এইসময়ে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো যুবকদের কাণ্ড দেখে আলোচনা সর্বত্র। তাঁদের একটি বিশাল বাজার আছে। হাজার হাজার মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসেন। অনেক অসহায় রয়েছে। রমজান মাসে যাদের ইফতারের সামর্থ্য নেই।

তাঁদের কথা চিন্তা করে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর প্রধান সেনাপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন খুব স্বাভাবিকভাবে। তিনি লিখেন,আলহামদুলিল্লাহ ছোট্ট একটি মহতী উদ্যোগ। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সাহস করলাম।ইফতারির আইটেম হবে দশটি। সহযোগিতার জন্য বিকাশ নগদ নাম্বার দিয়েছেন।

প্রথম পবিত্র রমজানে দুপুরের পর থেকে রোজাদারদের জন্য ইফতার আয়োজন করেন। ইফতারে স্থির চিত্র তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং যারা আর্থিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের নামের পাশে টাকার পরিমাণ ও জমাখরচ উল্লেখ করেন। 

এ দিনেই বিশ হাজার নয়শো টাকা পান। তাঁর নিয়মিত মোষ তাড়ানো দেখে এক এক করে পাশে দাঁড়ান আরো কয়েকজন। চারদিকে প্রচার হচ্ছে, ইফতারের সময়ে কিছু যুবক ইফতার করেছে। যা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বাড়তে থাকে রোজাদার।রোজা রেখে সারাদিন বাজার করা,ইফতার তৈরি করা, ইফতার করানো এবং ইফতারে পরে পরিষ্কার করা ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের  প্রশংসায় ভাসান।তাঁদের নিয়মিত কর্মযজ্ঞ চলতে থাকে। ইফতারের আইটেম রকমারি ফল বিরান ফিরনি ও চনা পিয়াজু বেগুনি আলুর চপ জিলাপি ও খেজুরসহ ইত্যাদি।

৫০ জন রোজাদার দিয়ে শুরু করেন ২৫০ জনে দাঁড়ায়। সহযোগিতা পেয়ে একসময় এসে সহযোগিতা নেওয়া বন্ধ করেন।যে পরিমাণ জমা আছে পবিত্র রমজান শেষ করে আরো অনেক জমা থাকবে।এরমধ্যে এক নারী ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর বিমানের ভাড়া জন্য ৩০ হাজার ঋণের টাকা হারায়ি অজ্ঞান হয়। 
ফের তাঁর বিষয়ে তুলে ধরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।পরে টাকা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন।হঠাৎ বিদেশ থেকে একজন ৫ হাজার আরেকজন ২৫ হাজার টাকা পাঠান।তাও ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো যুবকেরা ব্যবস্থা করেন।অসহায় নারীর হাতে টাকা তুলে দেন এবং ইফতারের জমা থেকে কিছু ঈদ সামগ্রী উপহার দেন।ছেলেও পবিত্র মক্কা নগরীতে পৌঁছান। 

ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর প্রধান সেনাপতির নাম মিজবাহ উদ্দিন রাজিব। তাঁর একার কষ্ট দেখে নিয়মিত মোষ তাড়াতে যুক্ত হোন জাহেদুল কবির সুমন, মোঃ নুরন্নবী,আব্দুল মান্নানসহ আরো কয়েকজন। তবে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন অনেকে।

মিজবাহ উদ্দিন রাজিব দৈনিক  আমার সংবাদকে বলেন, মাত্র ২ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে সাহস করি। বর্তমান জমা আছে ৮৫ হাজার ৫শত সত্তর টাকা। আমি এত সহযোগিতা ভালোবাসা পাবো তা কল্পনাও করিনি। সমাজে ভালো কাজ করার জন্য শুধু সাহস করে  উদ্যোগ নিতে হয়।

সাদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ডিএমডি নূরে ইয়াছমিন ফাতিমা বলেন, বর্তমান সময়ে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো মানুষ কি পাওয়া যায়। রাজীবদের স্যালুট।তাঁদের কর্মকাণ্ড দেখে এতো আত্মতৃপ্তি পাই বলার মতো। ইনশাআল্লাহ আগামী বছর উপরে ছাউনি দিনে বিশাল পরিসরে করার জন্য তাঁদের পাশে আমিও থাকবো। তবে আমি একজন ব্যবসায়ী। দেশবিদেশে আসা-যাওয়া করতে হয়। সরাসরি থাকতে না পারলেও অন্যান্য উপায়ে পাশে থাকবো।

বিআরইউ

Link copied!