দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫, ১১:১৭ এএম
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট, যন্ত্রপাতি অচলাবস্থা ও অপ্রতুল জনবল-সব মিলিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে চিকিৎসা সেবা। এতে প্রতিদিন বিপাকে পড়ছেন উপজেলার সাধারণ রোগীরা। হাসপাতালে যথাযথ সেবা না পেয়ে অনেক রোগী চলে যান স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে। যা সাধারণ গরিব মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালে অন্তত ১৫ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার। অধিকাংশ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন মিটিং, সেমিনার, জাতীয় দিবসে অংশগ্রহণ সহ প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ১জন চিকিৎসকের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাথে সাথে নার্সদের উপর পড়েছে অতিরিক্ত চাপ। হাসপাতালে সিজারিয়ানের ব্যবস্থা থাকলেও বিশেষজ্ঞ গাইনি ডাক্তার না থাকায় সাধারণ গরিব গর্ভবতী মায়েরা ক্লিনিকে সিজার করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা জানান, ডাক্তারের অভাবে সেবা পাচ্ছেন না তারা। জরুরি বিভাগেও রোগী এলে নাম-ঠিকানা লিখে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে অথবা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। নেই আল্ট্রাসনোগ্রামের সুযোগও। প্যাথোলজি বিভাগ চলছে দায়সারা ভাবে।

জানা গেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি কোয়ার্টারগুলোও বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। ব্যবহারের অভাবে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের খাবার নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। রোগীদের দেওয়া খাবারের মান নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। টয়লেট অপরিষ্কার, সুইপার থাকলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ঘাটতি প্রকট।
এলাকা বাসীর দাবি, প্রয়োজনীয় ঔষধ নেই, চিকিৎসক নেই, যন্ত্রপাতি কাজ করে না- এমন অবস্থায় সরকারি হাসপাতালটি যেন শুধুই বিল্ডিংয়ে সীমাবদ্ধ। অবিলম্বে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও জনবল বাড়ানো হোক, যন্ত্রপাতি সচল করা হোক এবং সেবার মান উন্নত করা হোক। তা না হলে একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। চেষ্টা করছি যেন রোগীরা বেশি সেবা পায়।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, সকল উপজেলায় ডাক্তার সংকটে আছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ডাক্তার সংকট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।
জেএইচআর