রাইসুল ইসলাম খোকন, সরিষাবাড়ী
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর রাশেদুল ইসলাম রঞ্জু প্রাকৃতিক উপায়ে হাঁস, দেশি মুরগি, রাঁজহাস, টাইগার মুরগি, তিতির, কোয়েল পাখি, টার্কি, মিশরী ফাউমি ও সোঁনালী মুরগির ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার উদ্যোগে বহু বেকার নারী-পুরুষও হাস-মুরগির খামার গড়ে তুলতে পেরেছেন। রঞ্জু উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজারের মৃত গিয়াস উদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রঞ্জু তার নিজ বাড়ীতে টিনের ঘরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিম ফোটানোর যন্ত্র (ইনকিউবেটর) স্থাপন করেছেন। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ও পুরুষেরা ডিম নিয়ে আসেন হ্যাচারিতে বাচ্চা ফুটানোর জন্য।
প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবার ক্রেতারা ভিড় জমান হ্যাচারি পল্লিতে বাচ্চা সংগ্রহ করতে। প্রতিটি ডিম ফুটানোর জন্য নির্ধারিত খরচ মাত্র ৫ টাকা। ফোনের মাধ্যমে অর্ডার করলে নির্দিষ্ট ঠিকানায় বাচ্চা পৌঁছে দেওয়া হয়।
বাচ্চা ফুটানোর জন্য প্রাকৃতিক উপায়েও তাপ ব্যবহার করা হয়। বড় পরিমাণে ডিম ফোটানোর ক্ষেত্রে ইনকিউবেটরের বিকল্প নেই। যারা ডিম না দিয়ে বাচ্চা কিনতে চান, তাদের জন্যও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রকারভেদ অনুযায়ী এক দিনের বাচ্চা হাঁস বা মুরগি ২০–৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
এছাড়াও বিক্রি করা হয় রাঁজহাস, টাইগার মুরগি, তিতির, কোয়েল, টার্কি, মিশরী ফাউমি ও সোঁনালী মুরগির বাচ্চা।
হ্যাচারির কর্মীরা ভালো জাতের ডিম সংগ্রহ করে পানিতে পরিষ্কার, বাছাই ও বিশেষ কাঠের পাত্রে ফ্যানের বাতাসে রেখে ২৮–৩০ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফুটান।
হ্যাচারি থেকে বাচ্চা নিয়ে খামার শুরু করা রনি আহমেদ বলেন, “প্রথমে ২০টি মিশরী ফাউমি মুরগির বাচ্চা কিনে বাড়ীতে পালন শুরু করি। কিছুদিন পর মুরগি ডিম দিতে শুরু করে। এখন বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালন করছি। প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।”
বয়ড়া কুলঘাট এলাকার খামার মালিক কবির মাহমুদ বলেন, “সাত মাস আগে আমার স্ত্রীকে ২০০ হাঁস-মুরগির বাচ্চা কিনে দিয়েছি। বাড়ীতে পালন করে বাজারে বিক্রি করেছি, ভালো লাভ হয়েছে। এখন মাসিক আয় হচ্ছে।”
ডিম নিয়ে বাচ্চা ফুটাতে আসা আব্দুল মান্নান, রহিমা বেগম ও মারিয়া আক্তার জানান, “আমরা বাড়িতে ডিম ফুটানোর জন্য মুরগি রাখার ঝামেলা আর করব না। এখানে কম খরচে এবং ঝামেলা বিহীনভাবে বাচ্চা ফুটানো যায়। বাচ্চা লালন-পালন করে খাবার বা বিক্রি করে আয় করা যায়।”
মন্ডল হ্যাচারির মালিক রাশেদুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, “এটি এলাকার বেকার নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করার জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। হ্যাচারিতে বাচ্চা ফুটানো, লালন-পালনে ভালো লাভবান হওয়া যায়। পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা বিভিন্ন স্থানে বাচ্চা কিনে নিয়ে যায়। মোবাইল অর্ডারের মাধ্যমে দেশজুড়ে পাঠানো হয়।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “রঞ্জুর এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এর ফলে সরিষাবাড়ীর খামারিরা উপকৃত হবেন এবং এলাকার বেকার যুবক-নারীরা স্বাবলম্বী হবেন। বাচ্চা ফুটানো ও মুরগি পালন সম্পর্কিত ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রদান করা হচ্ছে।”
ইএইচ