সিলেট প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৪:১৩ পিএম
সিলেট নগরীতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের প্রতিবাদে ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকরা আন্দোলনে নামেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তারা আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে জড়ো হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
এ সময় তারা সড়ক দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করেন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালান।
দুপুরে পারমিট প্রদানের দাবিতে তারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মিছিল বের করে। ‘সিলেট ব্যাটারী চালিত রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা চৌহাট্টা পয়েন্টে বাঁশ ফেলে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশি উপস্থিতিতে বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি না হলেও, চালকদের উত্তেজিত স্লোগানে পুরো এলাকা সরব হয়ে ওঠে। মিছিল শেষে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। পথে বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন—‘পারমিট চাই’, ‘রিকশা চালাতে দাও’, ‘গরিবের পেটে লাথি মারো না’। শেষমেশ বন্দরবাজার পয়েন্টে অবস্থান নেন এবং সেখানেও একই দাবিতে শ্লোগান দেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিকশা চালকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্মারকলিপি পেশের প্রস্তুতি নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে শতাধিক রিকশা চালক সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের গেইট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা চালান এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পৌনে ৪টার দিকে সরেজমিনে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আন্দোলনকারীদের দেখা মেলেনি।
এর আগে, গত তিনদিন ধরে সিলেট নগরীতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। বুধবার অভিযানের তৃতীয় দিনে ৬৯টি যানবাহন আটক করা হয়, যার মধ্যে ৪৪টি ছিল ব্যাটারি চালিত রিকশা। এছাড়া ৩১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মামলা দায়ের করা হয়। আটককৃত যানবাহনের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর শামীমাবাদ এলাকায় ১০টি গ্যারেজের অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় ১৪৫ ফুট বৈদ্যুতিক তার, ১৮০টি চার্জিং পয়েন্ট ও ১০টি অবৈধ মিটার জব্দ করা হয়।
রিকশা চালকরা দাবি করেন, পারমিট না দিয়ে তাদের রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা চালাতে চান।
ইএইচ