ফরিদপুর প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৫:০০ পিএম
ফরিদপুর শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জেলার নয়টি উপজেলার ৭৫৮ টি মণ্ডপে মহাঅষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মণ্ডপে উপোস থেকে ভক্তরা দুর্গা মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারটা পর্যন্ত চরকমলাপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে সকাল থেকেই কুমারী পূজা দেখার জন্য নানা বয়সি সব ধর্মাবলম্বী ভক্তদের ভিড় জমে। পূজা শেষে মিশনের পক্ষ থেকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাঅষ্টমী পূজার সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সি নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ভক্তরা নতুন নতুন পোশাক পড়ে পূজা মণ্ডপে ভিড় করেন। এ সময় পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বাজনা ও উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনিতে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিনে সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাত পুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। মহা অষ্টমীতে নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরানো হয়। হাতে দেওয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা। যথাসময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয় কুমারীকে। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পূত-পবিত্র ও মাতৃ ভাবাপন্ন।
এবার কুমারী দুর্গা মা হিসেবে পূজিত হয় তার নাম অসমী মজুমদার (১০)। সে শহরের দক্ষিণ চর কমলাপুরের বাসিন্দা দীপক মজুমদার ও কৃষ্ণা ব্যানার্জি দম্পতির মেয়ে। অসমী মজুমদার স্থানীয় সানরাইজ প্রি ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কুমারী পূজার পুরোহিত নীলরতন ঝা বলেন, মা দুর্গার যে কয়টি রূপ আছে তারমধ্যে কুমারী অন্যতম। মূলত মা দুর্গাকে শিশু রূপে যে পূজা করা হয় তাকেই কুমারী পূজা বলা হয়। এজন্য প্রতিবছর অষ্টমী পূজার দিন এই পূজার আয়োজন করা হয়।
ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী সর্বানন্দ বলেন, শাস্ত্রমতে কুমারী নির্বাচন করে বয়স অনুযায়ী তাকে নাম দিয়ে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এজন্য নির্বাচিত কুমারীকে বিভিন্ন আচার-নিষ্ঠা মেনে চলতে হয়েছে। কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী মনে পূজা করেন ভক্তরা। শাস্ত্রমতে এই বয়সে কুমারী পূজিতা হলে শুভশক্তির বিকাশ ও অশুভ শক্তির বিন্যাস ঘটে। এতে সমাজে অশান্তি দূর হয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকে।
জেএইচআর