ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হরিণাকুণ্ডুতে বিদ্যালয়ের মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতা

কে এম সালেহ, ঝিনাইদহ

কে এম সালেহ, ঝিনাইদহ

অক্টোবর ৭, ২০২৫, ০৫:৪৫ পিএম

হরিণাকুণ্ডুতে বিদ্যালয়ের মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতা

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ১০৬ নম্বর কাছারী তোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি এবছরের জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এখনো পর্যন্ত জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। 

বিদ্যালয়ের মাঠের পানিতে চরে বেড়াচ্ছে হাঁস, আবার কেউবা গরুর গোসল করাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের দাবি, উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানিয়েও মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে ১৯৯৬ সালে একটি ভবন নির্মিত হয়। এই ভবনে একটি অফিস কক্ষ ও ৩টি শ্রেণি কক্ষ রয়েছে। ৩৩ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন, যার মধ্যে নারী শিক্ষক ৪ জন।

গতবছর বিদ্যালয়ে একটি ওয়াশ ব্লকের কাজ শুরু হলেও অর্ধেক করে ফেলে রেখে গিয়েছে ঠিকাদার। বিদ্যালয়টিতে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। 

তবে বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হল জলাবদ্ধতা। বর্ষার শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের মাঠটি জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। আগস্টের শুরুর দিকে বিদ্যালয়ের ভবনের বারান্দা পর্যন্ত পানির নিচে চলে যায়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বলেন, “আগস্ট মাসের শুরুর দিকে আমরা হাটু পানি ডিঙিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছি। এখন তো পানি কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েরা কোলে করে স্কুলে দিয়ে গেছে ও নিয়ে গেছে।”

মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে রাজহাস চরে বেড়াচ্ছে। মাঠের জমে থাকা পানিতে গরু গোসল করাচ্ছেন স্কুলের পাশে বসবাস করা এক বৃদ্ধ। বিদ্যালয় ভবনের বারান্দার গেটটি তালাবদ্ধ করে ভিতরে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেকেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন নজরুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, “এই উপজেলার মধ্যে এই বিদ্যালয়টি সবচেয়ে অবহেলিত। উপজেলা শিক্ষা অফিসের গত মাসিক মিটিংয়েও বিদ্যালয়ের মাঠে পানি বেধে থাকার বিষয়টি অবহিত করেছি। সরোজমিনে শিক্ষা অফিসাররাও দেখে গেছেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা হয়নি। প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়ে একটি বিল্ডিং পেয়েছি। পর্যাপ্ত রুম না থাকায় তিনটি ক্লাসরুমেই কষ্ট করে ক্লাস নিতে হয়। গতবছর একটি ওয়াশব্লকের কাজ শুরু করলেও অর্ধেক করে ফেলে রেখে চলে গেছে ঠিকাদার। বর্ষার শুরু থেকেই আমরা খুব শংসয়ের মধ্যে রয়েছি। কখন কোন বাচ্চা পানিতে ডুবে যায়। আগে ১৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে ৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বাচ্চাদের খেলাধুলার জায়গা নেই, সবসময় শ্রেণি কক্ষে আটকিয়ে রাখতে হয়।”

তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত মাঠ ভরাট ও প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জীবন জানায়, “গত মাসে স্কুলে আসার সময় বই-খাতা নিয়ে একদিন পানির মধ্যে পড়ে গেছিলাম। অন্যান্য শিক্ষার্থীর মাধ্যমে শিক্ষকরা খবর পেয়ে আমাকে পানি থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আমার বই-খাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।”

বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে অবস্থিত ছাত্তার স্টোরের মালিক রায়হান মাহমুদ জানান, “বর্ষার শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি বেধে রয়েছে। এখনতো আস্তে আস্তে কমছে। মাঠটি ভরাট করা হলে ছেলে-মেয়েরা নিরাপদে স্কুলে এসে ঘুরে বেড়াতে পারবে। অন্যান্য স্কুল দুইতলা হয়ে গেলেও কেন এই স্কুলের কোন উন্নয়ন হয়নি তা বুঝতে পারছি না।”

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শিক্ষা অফিসার এস. এম. আব্দুর রহমানের ফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা বলেন, “এই বিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়েছি। স্কুলের সামনে একটি ডোবার মতো জায়গা রয়েছে, সেখানে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, “এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়েছি। এটা সাময়িক জলাবদ্ধতা নয়, এটি একটি স্থায়ী সমস্যা কারণ স্কুলের সামনে একটি বড় গর্ত রয়েছে, যা ভরাট করতে আলাদা বরাদ্দের প্রয়োজন। সেই বরাদ্দের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে সমাধান করা সম্ভব হবে। তাছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।”

ইএইচ

Link copied!