মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৪:০০ পিএম
চরম দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মনিষা সরকার। তিনি চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে প্রমাণ করেছেন পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির কাছে দারিদ্রতাও হার মানে।
মির্জাপুর পৌরসদরের শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের ছাত্রী মনিষা উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া গ্রামের অজিত চন্দ্র সরকার ও লতা রানী সরকারের মেয়ে। তার বাবা অজিত একজন সেলুনকর্মী; দেওহাটা বাজারে ভাড়া দোকানে কাজ করেন। টানাপোড়েনের সংসারে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
মনিষা জানান, কলেজে যেতেন প্রতিদিন ছয় কিলোমিটার হেঁটে। টাকার অভাবে বই কিনতে পারেননি, প্রাইভেট পড়াও হয়নি। ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিজেই প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার বড় স্বপ্ন, প্রশাসন ক্যাডারে বিসিএস কর্মকর্তা হওয়া।
এর আগে ২০১৭ সালে মীর দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পাস করেন মনিষা। ২০২৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৯৪ পান। অল্পের জন্য জিপিএ-৫ না পাওয়ায় হতাশ হলেও বাবা-মায়ের সাহসেই ঘুরে দাঁড়ান।
তাদের ভাঙাচোরা টিনের ঘরে বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ে। পরিবারে ছোট ভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। দুই চাচা এবং বৃদ্ধা দাদাও আছেন একই পরিবারে। মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে বসবাস করে এই পরিবার।
মনিষার বাবা অজিত চন্দ্র সরকার বলেন, "মেয়েটা খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করছে। স্বপ্ন দেখি, একদিন ও ভালো কিছু করবে। সরকারি সহায়তা পেলে মেয়ের স্বপ্নপূরণ সম্ভব।"
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.বি.এম আরিফুল ইসলাম বলেন, মনিষার মতো মেধাবীদের পাশে প্রশাসন সবসময় আছে। তার উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, মনিষা আমাদের গর্ব। কলেজের পক্ষ থেকে তার পাশে থাকব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার বলেন, মনিষার মতো অদম্য মেয়েরা সমাজের প্রেরণা। তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।
মনিষা আজ একটি নাম নয়, এক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। সঠিক সহায়তা পেলে সমাজের অনেক মেয়ের পথপ্রদর্শক হতে পারেন তিনি।
জেএইচআর