মো. নুরুল আমিন (খুলনা)
নভেম্বর ৩, ২০২৫, ০৪:২২ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য এবং খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু-কে খুলনা-২ (সদর ও সোনাডাঙ্গা) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি তাঁকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে মঞ্জু নিজেই জানিয়েছেন।
রোববার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে লন্ডন থেকে টেলিফোনে তারেক রহমান মঞ্জুকে প্রার্থী হিসেবে কাজ শুরু করতে বলেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জু আমার সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোন করে তাঁকে মাঠে নামতে বলেন। অসুস্থতার কথা জানালে তারেক রহমান বলেন, সুস্থ হয়ে মাঠে নেমে পড়ুন, সবাইকে নিয়ে কাজ শুরু করুন। নির্বাচনে সবাইকে লাগবে। ভালো-মন্দ, পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে, তারপরও সবাইকে সঙ্গে নিন।
বর্তমানে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি জানিয়েছেন, সুস্থ হওয়ার পর তিনি খুলনায় ফিরে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ সভা করবেন।
দীর্ঘ চার বছর পর গত সোমবার ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মঞ্জু পুনরায় দলে সক্রিয় হন। ওই বৈঠক শেষে খুলনায় ফেরার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তাঁর চিকুনগুনিয়া ধরা পড়ে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও নেতাকর্মীদের প্রতি বার্তা: রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্টে মঞ্জু দলের এই সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নেতাকর্মীদের প্রতি ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শুকরিয়া।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দ্রুত সবাইকে নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
অপর এক পোস্টে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে উল্লাস প্রকাশ, আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ নিষেধ। কাউকে খাটো করা বা বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করা থেকেও বিরত থাকুন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনাই আমাদের পথনির্দেশ। এই পোস্টগুলো প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানানো শুরু করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। সে সময় শফিকুল আলম মনাকে আহ্বায়ক এবং শফিকুল আলম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্জুর অনুসারী প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতা তখন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে মঞ্জুকে কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দলীয় পদ হারালেও মঞ্জু রাজনীতি থেকে সরে যাননি। তাঁর অনুসারীদের নিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। খুলনার বিভিন্ন সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও সামাজিক আয়োজনে তাঁর উপস্থিতি নিয়মিত ছিল।
নজরুলইসলাম মঞ্জু ২০০৮ সালের নির্বাচনে খুলনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে তিনি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
জেএইচআর