আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ
নভেম্বর ৬, ২০২৫, ০৯:৪৪ পিএম
ফুলপুরে এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল নেটওয়ার্ক ফর আর্লি চাইল্ডহুড (আরএনইসি) এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) ও কোডেকের উদ্যোগে “জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাথমিক শৈশব উন্নয়নে শিশুদের কণ্ঠস্বর (ইসিডি)” এডভোকেসি ওয়ার্কশপ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও নাটিকা প্রদর্শন সিংহেশ্বর শিখন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ছোট শিশুরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, অতিরিক্ত তাপ, শৈত্যপ্রবাহ, খরা, নদী ভাঙন, বায়ু দূষণ এবং স্থান/বাস্তুচ্যুতির কারণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা শিশুর বেঁচে থাকা, শেখা এবং সুস্থতাকে প্রভাবিত করে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) পরিচালিত সিংহেশ্বর শিখন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল নেটওয়ার্ক ফর আর্লি চাইল্ডহুড (আরএনইসি) এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) ও কোডেক যৌথভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য “জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাথমিক শৈশব উন্নয়নে শিশুদের কণ্ঠস্বর (ইসিডি)” দিনব্যাপি ক্যাম্পেন এর অংশ হিসেবে শিশুদের অংশগ্রহণে ক্রিয়েটিভ চিত্রাংকন ওয়ার্কশপ, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন বিষয়ক নাটিকা, এডভোকেসী ওয়ার্কশপ এবং শিশুদের আঁকা ছবি প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

চিত্রাংকন ওয়ার্কশপে ৫-৮ বছর বয়সি ৫৫জন শিশু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ ও পরিবেশ বিপর্যয় বিষয়কে উপজীব্য করে বিভিন্ন ধরনের চিত্রাংকন করেন এবং সিলেক্টেড চিত্রগুলো শিখন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রদর্শন করা হয় সেখানে সরকারি কর্মকর্তা, সিংহেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান মুমিন হোসেন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য আফরোজা আক্তার, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিশু এবং কমিউনিটির প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেন
চিত্রাংকন ওয়ার্কশপে সবাইকে স্বাগত জানান এ.কে. এম হুমায়ুন কবীর, প্রকল্প সমন্বয়কারী এবং ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন মো. শফিকুল হাছান, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও এডভোকেসী কো-অর্ডিনেটর, মো. শফিকুল ইসলাম, মনিটরিং এন্ড ইভেলুয়েশন কো-অর্ডিনেটর এবং ওয়াহিদুজ্জামান খান, উপজেলা সমন্বয়কারী কোডেক ইএমডসি প্রজেক্ট।
জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশে গভীর বিপর্যয় ডেকে আনে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদি কারণে মানুষের মৃত্যু হয় এবং ঘরবাড়ি, ফসল ও পশুপাখির ব্যাপক ক্ষতি ঘটে। খরা ও অতিবৃষ্টিতে কৃষি উৎপাদন কমে যায়, ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
কৃষক, জেলে, শ্রমিকসহ বহু মানুষ তাদের জীবিকা হারায় এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, দুর্যোগের সময় বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত হলে শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবংদুর্যোগের ফলে দরিদ্র পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যার প্রভাব পড়ে শিশুদের শিক্ষাজীবনে; তারা বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হয়।
শিখন কেন্দ্রের শিশুদের নিয়ে প্রদর্শিত নাটিকাটি সার্বিক পরিচালা করেন মো. শফিকুল ইসলাম, মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ও তার টিম প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. নাইমুর রহমান,মশিউর রহমান উদয়, মিজানুর সেলিম, নাসরিন আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস।