কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৮:৪১ পিএম
ডাক্তার সংকট, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, এক্স-রে মেশিন বন্ধ, অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ডাক্তারের অভাবে তাহা বন্ধ রয়েছে। এসব কারণে কোটালীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে।
জানা গেছে, ১০০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞসহ মোট ৫২ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৪ জন। কাগজে কলমে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড মিলিয়ে ৬০টি শয্যা রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি আবার অকেজো।
রোগীদের অভিযোগ, এ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কোনো ডাক্তার ওয়ার্ডে এসে রোগী দেখেন না। এমনকি প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ও স্যালাইন ছাড়া কোনো ওষুধ রোগীদের দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ দামি ওষুধ দোকান থেকে কিনে নিতে হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ১২ নম্বর শয্যায় বান্ধাবাড়ী গ্রামের ৯০ বছর বয়সী জালাল উদ্দিন জ্বর, কাশি ও বুকের ব্যথ্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন গত ২৪ নভেম্বর। তিনি বলেন, "৫ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এর মধ্যে কোনো ডাক্তার ওয়ার্ডে রোগী দেখতে আসেন নাই। এমনকি কোনো ওষুধও হাসপাতাল থেকে দেয় নি। সকল ওষুধ সামনের দোকান থেকে কিনে এসে খাই।"
ভর্তিকৃত অন্য রোগীদের অভিযোগও বিস্তর। টিহাটী গ্রামের দেড় বছরের শিশু অজুফাকে নিয়ে তার মা বসে আছেন শিশু ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর শয্যায়, তিনি জানান, "শিশু কন্যার নিউমোনিয়া নিয়ে ৭ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হইছি, এ পর্যন্ত কোনো ডাক্তার রোগী দেখতে আসেন নাই, জরুরি বিভাগে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি কথা শুনে কাগজে ওষুধ লিখে দেন, সামনের দোকান থেকে ওষুধ কিনে বাচ্চাকে খাওয়াইতেছি, হাসপাতাল থিকা কোনো ওষুধ দেয় নাই।"
এ ব্যাপারে হাসপাতালের কর্মরত নার্স বাসন্তি দাস জানান, হাসপাতালে বরাদ্দকৃত স্যালাইন সহ বিভিন্ন ওষুধই রোগীদের দেওয়া হয়, তবে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত স্যালাইন হাসপাতালে নেই। মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি বর্ষাপাড়া গ্রামের প্রিয়ংকা খাতুন, তিনি ২ দিন আগে পেটের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, "একটি স্যালাইন ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাই নাই, সব ওষুধ সামনের দোকান থেকে কিনে এনে খাচ্ছি।" এ বিষয়ে কর্তব্যরত আরেক নার্স বলেন, রোগীরা যে ভাবে বলে আদৌ সেটা ঠিক নয়। আমাদের যে সব ওষুধ আছে তা সবই রোগীদের দেওয়া হয়।
ওদিকে হাসপাতালের টয়লেট গুলোর অবস্থা করুণ, দূর্গন্ধময় ময়লা আবর্জনা ভর্তি টয়লেটগুলো। শুধু টয়লেট নয় হাসপাতালের ভিতরে যত্রতত্রই ময়লা আবর্জনার স্তূপ লক্ষ করা গেছে। টয়লেট বাথরুমে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।
কাগজে কলমে ১শ শয্যা হলেও ৬০টি শয্যা ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে লিফট ব্যবস্থা থাকলেও তাহা অচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে ৫২ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে ৪ জন। আয়া ২ জনের স্থলে রয়েছে ১ জন, সুইপার ৫ জনের স্থলে ৩ জন আউট সোর্সিংয়ে কাজ করে।
স্বাস্থ্য সহকারী ৫০ জনের স্থলে রয়েছে ৩১ জন।
এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্প কর্মকর্তা ডাক্তার কুমার মৃদুল দাস জানান, "জুলাই আন্দোলনের পরে এখানের অনেক ডাক্তারই ইচ্ছাকৃত ভাবে বদলী হয়ে চলে গেছে, আমি ডাক্তার পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি আগামী জানুয়ারীতে কিছু ডাক্তার এখানে যোগদান করবেন। আর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ব্যাপারে আমি যথেষ্ট যত্নবান। রোগীরা অসচেতন হওয়ায় যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করে।"
ইএইচ