কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এক গ্রামীণ সড়ক। কয়েক মাস আগেও যে রাস্তার দুই পাশ ছিল অনাবাদি ও অবহেলিত, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে সবুজে মোড়ানো এক অনন্য দৃশ্যপট। প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দু’পাশে বাঁশের মাচায় ঝুলছে লাউ, কুমড়া, চিম ও নানা মৌসুমি সবজি। সবুজের এই সারি যেন জানান দিচ্ছে-পরিকল্পনা আর পরিশ্রম থাকলে পতিত জমিও হয়ে উঠতে পারে সম্ভাবনার ক্ষেত্র।
উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কেরানিপাড়া সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিনের ব্যস্ততায় চলাচলকারী পথচারীরা থমকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখছেন মাচায় ঝুলে থাকা সবজি। কেউ কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে নিচ্ছেন চাষাবাদের কৌশল। গ্রামীণ এই সড়ক যেন এখন এক খোলা কৃষি প্রদর্শনী ক্ষেত্র।
স্থানীয় চাষি জিয়াউর রহমান বলেন, আগে রাস্তার পাশের জায়গাগুলোতে ঝোপঝাড় ছিল। কোনো কাজে লাগত না। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা মাচা তৈরি করে সবজি চাষ শুরু করি। এখন এই জায়গা থেকেই ভালো আয় হচ্ছে।
চাষি বাবুল মিয়া জানান, মাচায় চাষ করলে জমি কম লাগে, আবার ফলন বেশি পাওয়া যায়। সবজিও পরিষ্কার থাকে। বাজারে নিয়ে গেলে দামও ভালো পাওয়া যায়।
এই সড়কে সবজি চাষ শুরু হওয়ার পর আশপাশের এলাকার মানুষজনের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে।
চাষি আবুল কাশেম বলেন, অনেকে এসে দেখে শিখছে। কেউ কেউ বলছে, তারাও তাদের এলাকায় এমনভাবে চাষ শুরু করবে।
চাষি আদম আলী ও ছামিনুর রহমানের ভাষ্য, কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ দেয়। কীভাবে মাচা বানাতে হবে, কী সার দিতে হবে-সব বিষয়ে সহযোগিতা পাচ্ছি। এতে আমাদের ঝুঁকি কমেছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসের সক্রিয় ভূমিকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ইউএও) কৃষিবিদ তুষার কান্তি রায় বলেন, রাস্তার পাশের অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে মাচায় সবজি চাষ একটি পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক উদ্যোগ। এতে উৎপাদন বাড়ছে, কৃষকের আয়ও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, মাচায় সবজি চাষে রোগ-বালাই তুলনামূলক কম হয় এবং পরিচর্যাও সহজ। আমরা প্রশিক্ষণ, বীজ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে চাই।
এক কিলোমিটার রাস্তার এই সবুজ বদলে যাওয়ার গল্প শুধু সৌন্দর্যের নয়, এটি কৃষকের আত্মনির্ভরতার গল্পও। অনাবাদি জায়গাকে কাজে লাগিয়ে যে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া যায়-কালীগঞ্জের এই মাচায় সবজি চাষ তারই জীবন্ত উদাহরণ।
জেএইচআর