ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

এক বছরে শ্রীপুরে ৩৩ খুন, ৪২ ধর্ষণ ও ১১০ লাশ উদ্ধার

এস এম জহিরুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর)

এস এম জহিরুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর)

জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

এক বছরে শ্রীপুরে ৩৩ খুন, ৪২ ধর্ষণ ও ১১০ লাশ উদ্ধার

শিল্পকারখানার ব্যস্ততা আর শ্রমজীবী মানুষের ভিড়ের আড়ালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গত এক বছরে বেড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ সহিংস বাস্তবতা। বিদায়ী ২০২৫ বছরে এই উপজেলায় সংঘটিত হয়েছে অন্তত ৩৩টি হত্যাকাণ্ড। 

একই সময়ে ধর্ষণের মামলা হয়েছে ৪২টি, অপমৃত্যুর মামলা ৭০টি এবং বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১০টি মরদেহ। শ্রীপুর থানা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হলেও কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। স্থানীয়দের ভাষ্য, শ্রীপুরে সহিংসতার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে মাদক, ছিনতাই ও জমি জবরদখল।

মাদকের ভয়াল পরিণতিতে বাবার হাতে ছেলের মৃত্যু হয়েছে গত বছরের ৩০ এপ্রিল। শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নানাইয়া গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাদকাসক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন বাবা মোহাম্মদ আলী। পরে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। 

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে জানান, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

১ মে যোগীরসিট গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. নাজমুল ইসলাম নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৯ মার্চ শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী মো. রেজাউল করিমকে হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি।

গত বছরের জানুয়ারিতে পৌরসভার মসজিদ মোড় এলাকায় পল্লিচিকিৎসক মো. হাসিবুল ইসলাম বাদশাকে ইট ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডটির নেতৃত্ব দেন কিশোর গ্যাং লিডার রুবেল। এই ঘটনা শ্রীপুরে কিশোর অপরাধের ভয়াবহ বিস্তারের দিকটি নতুন করে সামনে আনে।

গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে গোসিঙ্গা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত তারা ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

শ্রীপুরে খুনের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ২২ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা এলাকায় ফজলুর রহমানের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের নিচতলায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে যুবদল নেতা শামীম প্রধানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে ওই শিশুর ওপর ধারাবাহিক যৌন হয়রানি চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

২৩ অক্টোবর রাতে শিশুটির বাবা শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এর আগে ২৪ অক্টোবর শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় উত্তেজিত এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে তিনি আহত হন। 

এছাড়া ১০ জানুয়ারি পৌরসভার ফখরুদ্দীন এলাকায় এক গার্মেন্টস শ্রমিককে আটকে রেখে তার বোনকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী নারী ও তার ভাইকে উদ্ধার করে।

শ্রীপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাঈদ চৌধুরী বলেন, “শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে মাদক ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের একযোগে দায়িত্ব নিতে হবে।”

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, “অপরাধের সাথে তাল মিলিয়ে অপরাধী গ্রেপ্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ এবং মাদকের গ্রেপ্তার ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সারাদেশের ন্যায় শ্রীপুরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা প্রদর্শন করছে। আমরা আশাবাদী এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।”

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, “গত বছরে সংঘটিত ৩৩টি হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে এবং বেশিরভাগ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। কয়েকটি মামলার তদন্ত চলমান। ধর্ষণের ঘটনায় ৪২টি এবং অপমৃত্যুর ঘটনায় ৭০টি মামলা হয়েছে। আত্মহত্যার কিছু ঘটনায় স্বজনেরা মামলা করেননি।”

ইএইচ

Link copied!