আমার সংবাদ ডেস্ক
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজার সাথে সাথেই নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতি। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁ-৫ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং জয়পুরহাট সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান নূর এই নোটিশ জারি করেন।
বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েমকে আগামী ১৮ জানুয়ারি সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল ও এনালগ প্রচারণার অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা বেশ ভারী। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রচারণা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রার্থীর নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও বিধি ভঙ্গের চিত্র ফুটে উঠেছে। সায়েমের পক্ষের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন যানবাহনে দলীয় প্রার্থীর স্টিকার ও পোস্টার লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, আমি আদালতের নোটিশ পেয়েছি। তবে যেসব পোস্টার বা ব্যানারের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো তফসিল ঘোষণার অনেক আগেই লাগানো হয়েছিল। তফসিলের পর আমরা নিজ উদ্যোগে অনেক ব্যানার সরিয়েছি, হয়তো অসাবধানতাবশত কিছু থেকে যেতে পারে। আর ফেসবুকের বিষয়টি আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা করে থাকতে পারেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ১৮ তারিখ সশরীরে হাজির হয়ে আদালতের কাছে আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করব।
ফেঁসে গেলেন বিএনপি প্রার্থী অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের। বিচারিক কমিটির নজরে এসেছে যে, সম্প্রতি নওগাঁ পৌর এলাকায় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে জাহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতেই দলের এক নেতা ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেছেন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ধর্মীয় উপাসনালয় বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ভোট চাওয়ার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি সরাসরি আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং আমাদের দলের একজন নেতার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে আবেগের বশবর্তী হয়ে কেউ হয়তো ভোট চেয়েছেন। আমি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকলেও সরাসরি কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ করিনি। তবুও আদালত যেহেতু ব্যাখ্যা চেয়েছে, আমি ১৮ তারিখ উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত জানাব।
নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কঠোর অবস্থান ও প্রভাব নওগাঁর নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত ও সুষ্ঠু রাখতে কোনো ধরণের ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান নূর। আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে দুই প্রার্থীকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
তাদের দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানাসহ প্রার্থিতা বাতিলের সুপারিশও করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সংসদ নির্বাচন নিয়ে নওগাঁ সদরের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ কাজ করছে। তবে প্রচারণা শুরুর আগেই বড় দুই দলের প্রার্থীদের এমন আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মতে, প্রার্থীরা যদি শুরুতেই নিয়ম অমান্য করেন, তবে নির্বাচনের মূল দিনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মাঠের রাজনীতির সমীকরণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে জোটগত কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় উভয় দলই তাদের হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েছে। এই আসন থেকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা পারভেজও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন, যা ভোটের সমীকরণকে পাল্টে দিতে পারে।
এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের নোটিশ প্রার্থীদের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির এই কঠোর পদক্ষেপ নওগাঁর নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা দেখার জন্য ২০ জানুয়ারির দিকে তাকিয়ে আছে নওগাঁর মানুষ।
জেএইচআর