ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
মাদারীপুরে নির্বাচনী সংঘাত

ধানের শীষ বনাম কলস, হাতুড়িপেটায় রক্তাক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমর্থকেরা

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

ধানের শীষ বনাম কলস, হাতুড়িপেটায় রক্তাক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমর্থকেরা

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে কমা মাদারীপুর ২ আসনের নির্বাচনী ময়দান ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো প্রার্থী এবং মূল দলের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যেকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সংঘাতের রূপ নিল। 

বুধবার দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালীর বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যর ওপর হামলার মধ্য দিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শান্ত পল্লী এলাকা। 

সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের ভাষ্যমতে কমা এই হামলায় কেবল হাতাহাতি নয় কমা বরং হাতুড়ি ব্যবহারের মতো নৃশংসতা দেখা গেছে। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টনসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর জখম হয়েছেন কমা যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার বেলা দেড়টা। কালীর বাজার এলাকায় নিজের প্রতীক কলস নিয়ে কর্মী সমর্থকদের সাথে সাধারণ ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিলি করছিলেন মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাবেক নেতা ও বর্তমান স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে কমা গণসংযোগ চলাকালীন হঠাৎ করেই ধানের শীষের একটি প্রচার মাইক সেই এলাকায় প্রবেশ করে। মুহূর্তের মধ্যেই ধানের শীষের স্লোগান দিতে দিতে একদল যুবক সেখানে উপস্থিত হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানান কমা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একপক্ষ অন্যপক্ষের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কমা হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে মিল্টনের কর্মীদের এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। এতে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

হামলার তীব্রতা ছিল এতটাই যে কমা মিল্টন বৈদ্যর অনুসারী বেল্লাল হোসেন হাতুড়ির আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কমা তার মাথায় ও শরীরের স্পর্শকাতর অংশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। 

বেল্লাল ছাড়াও মহিদুল মাতুব্বরসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন এই হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য অভিযোগ করেন কমা তার অন্তত ১০ জন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনের মুঠোফোন ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর দুই পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মিল্টন বৈদ্য দাবি করেন কমা কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার লোকজন পরিকল্পিতভাবে হাতুড়ি নিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। 

তিনি বলেন, কমা প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয় কমা তবে এই হামলা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। আমি নিজের এবং আমার কর্মীদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে প্রতিরোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। 

তার দাবি কমা মিল্টনের লোকজনই প্রথমে ধানের শীষের সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং তার নির্বাচনী ক্যাম্প বা প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর করেছে। তিনি এই উসকানিমূলক আচরণের বিচার দাবি করেন।

খবর পাওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি চৌকস দল। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বর্তমানে কালীর বাজার এবং রাজৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন কমা যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতিন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন কমা আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

মাদারীপুর ২ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে জাহান্দার আলী মিয়া ও মিল্টন বৈদ্যর মধ্যকার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। দল থেকে জাহান্দার আলীকে মনোনয়ন দেওয়ায় মিল্টন বৈদ্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। স্থানীয় রাজনীতিতে মিল্টনের একটি শক্তিশালী নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে কমা যা মূল প্রার্থীর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কমা ভোটের মাঠে নিজের অবস্থান সংহত রাখতে দুই পক্ষই এখন মারমুখী অবস্থানে। বিদ্রোহী প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ঠেকাতে গিয়েই এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সাধারণ ভোটাররা বলছেন কমা দুই নেতার এই দ্বন্দ্বে বলি হচ্ছে সাধারণ কর্মীরা। 

কালীর বাজারের একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কমা ভোটের প্রচার করতে এসে যদি হাতুড়ি নিয়ে মানুষ পেটানো হয় কমা তবে আমরা ভোট দিতে যাব কীভাবে? আমরা শান্তি চাই কমা রক্তপাত নয়। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ বা সমতল ক্ষেত্র থাকা জরুরি। কিন্তু মাদারীপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে কমা মাঠপর্যায়ে সহনশীলতার প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়। এখন দেখার বিষয় কমা নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন এই হামলার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

জেএইচআর

Link copied!