আব্দুল্লাহ আল আমিন, নকলা (শেরপুর)
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
শেরপুরের নকলায় পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মাঝে। দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ার পাশাপাশি কম খরচে বেশি লাভে অপার সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে সূর্যমুখী চাষে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষে আয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি হলুদ রঙের ফুলে ভরে ওঠা খেত দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে। এ বছর নকলা উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে ৮ থেকে ১০ জন কৃষক সূর্যমুখী আবাদ করেছেন।
চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ব্লকে বাংলাদেশ চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
বেনিরপোপ গ্রামের কৃষক আমানুল্লাহ আসিফ জানান, বাড়ির আঙিনায় ৩৩ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শে চাষাবাদ সহজ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাগর চন্দ্র দে জানান, প্রদর্শনীগুলোর সফলতায় অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাবলম্বিতা বাড়ছে। তবে স্থানীয়ভাবে বাজারজাতের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক কৃষক এখনও দ্বিধায় রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, সূর্যমুখী লাভজনক ফসল যা ৯০-১০০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। সামান্য সার ও ২-৩ বার সেচই যথেষ্ট। তিনি আরও জানান, বাজারজাত ব্যবস্থা জোরদার হলে এই আবাদ আরও বিস্তৃত হবে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখীর তেল কোলেস্টেরলমুক্ত ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ তেল হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সহায়ক এবং শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ফলে সূর্যমুখী চাষ বাড়লে একদিকে কৃষক লাভবান হবেন, অন্যদিকে জনগণ পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল। সব মিলিয়ে, পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ নকলায় কৃষির নতুন সম্ভাবনা ও আশার আলো হয়ে উঠছে।
এএন