ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

মুরাদনগরে নির্বাচনী ডামাডোলে ক্যাশ বিতর্ক, জামায়াত নেতা আটক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

মুরাদনগরে নির্বাচনী ডামাডোলে ক্যাশ বিতর্ক, জামায়াত নেতা আটক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে কুমিল্লা ৩ (মুরাদনগর) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ হঠাৎ ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে। 

প্রশাসনের দাবি, তার কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে শুরু হয়েছে চরম বাকযুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

বুধবার সকালে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে স্থানীয়রা ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান হেলালীকে ঘেরাও করে। অভিযোগ ওঠে, তিনি ভোটারদের প্রভাবিত করতে বাড়ি বাড়ি টাকা বিলি করছিলেন। 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন। জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে তাকে উদ্ধার করে ১ হাজার টাকার নোটের দুটি বান্ডিলসহ মোট ২ লাখ টাকা উদ্ধার করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে আসা হয়।

আটক হাবিবুর রহমান হেলালী কেবল একটি ইউনিয়নের আমিরই নন, তিনি মুরাদনগরে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক। থানায় আটকের পর তিনি দাবি করেন, তাকে সুপরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। 

তার ভাষ্যমতে, তার কাছে কেবল নির্বাচনী এজেন্টদের দুপুরের খাবারের জন্য সামান্য কিছু টাকা ছিল। বিএনপির কর্মীরা জোর করে একটি বাজারের ব্যাগে ২ লাখ টাকা ভরে তার গাড়ির পেছনের মালামাল রাখার জায়গায় রেখে দেয়। এই পুরো বিষয়টি তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং জামায়াত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ করার একটি নীলনকশা। 

মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াস এই দাবিকে আরও জোরালো করে বলেন, আমাদের দায়িত্বশীল নেতার কাছে টাকা ছিল না। বিএনপির লোকজনই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে আটক করে নাটক সাজিয়েছে।

জামায়াতের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া সাফ জানিয়েছেন, জামায়াত কর্মীরা টাকার জোরে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে। 

তার মতে, জনগণ তাদের হাতেনাতে ধরেছে। এখন পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির হয়ে লড়ছেন বর্ষীয়ান নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, আর জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আছেন ইউসুফ সোহেল। দুই দলের এই বিরোধ নির্বাচনের দিন মাঠ পর্যায়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যেহেতু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাতেনাতে টাকা বিলানো অবস্থায় পাননি, বরং স্থানীয়দের আটকের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকা উদ্ধার করেছেন, তাই আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। 

ইউএনও জানান, আমরা বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছি। তিনি এসে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদনগরের সাধারণ ভোটাররা যখন নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই টাকা বিতরণ ও আটক নাটক তাদের মাঝে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। ৯ জন প্রার্থীর এই লড়াইয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা ইউসুফ সোহেলের জন্য এই ঘটনাটি বড় একটি ইমেজ ক্রাইসিস হিসেবে দেখা দিচ্ছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এই ধরনের অর্থ উদ্ধার কেবল একটি আইনি ঘটনাই নয়, এটি রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি অংশ। 

জামায়াত নেতার এই দাবি কি সত্য নাকি এটি নিছক আত্মরক্ষার কৌশল, তা এখন তদন্তসাপেক্ষ। তবে কালকের ভোটের আগে এই ঘটনা মুরাদনগরের নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেএইচআর

Link copied!