আল-আমিন, নীলফামারী
মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
তিস্তার গজলডোবা বাঁধ নির্মাণের পর একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। তবে চলতি বোরো মৌসুমে ডালিয়া ব্যারেজে সংরক্ষিত পানি ও উজান থেকে আসা লিকেজ প্রবাহ কাজে লাগিয়ে সেচ কার্যক্রম জোরদার করায় আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। এতে রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীর প্রায় ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রধান খালসহ সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি খালগুলোতে এখন পানির প্রবাহ স্বাভাবিক। ডালিয়া ব্যারেজে সংরক্ষিত পানি থেকে এসব খালে সেচ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা সহজেই জমিতে সেচ দিতে পারছেন এবং বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী এলাকার কৃষক আবদুল হালিম বলেন, গত কয়েক বছর পানির অভাবে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এবার খালে পানি থাকায় সময়মতো সেচ দিতে পারছি। এতে ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।
একই উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাফিজার রহমান জানান, তিস্তার পানিতে সেচ দিলে জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার তুলনামূলক কম লাগে। এতে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং উৎপাদন খরচও কিছুটা কমে।
ডিমলা উপজেলার আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি একর জমিতে সেচ ফি মাত্র ৪৮০ টাকা হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি অনেক সুবিধাজনক। গভীর নলকূপের তুলনায় তিস্তার পানি ব্যবহার করলে খরচও কম হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার প্রায় ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো মৌসুমে সেচের জন্য সাধারণত ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কিউসেক পানির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার কিউসেক পানি সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম জাকারিয়া জানান, তিস্তা সেচ প্রকল্পের খাল ও ক্যানেলগুলোতে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে সেচের আওতা আরও বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল ও ক্যানেল আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো গেলে পানির অপচয় কমবে এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে ভূ-উপরিভাগের পানির স্তর স্থিতিশীল রাখা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর তিস্তার পানিতে সেচ সুবিধা ফিরে পাওয়ায় তাই বোরো আবাদ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। তাদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন হবে এবং ঘুরে দাঁড়াবে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।
এএন