ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণের উদ্বোধন করবেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

আশিকুজ্জামান লিমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

আশিকুজ্জামান লিমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

মার্চ ৩১, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণের উদ্বোধন করবেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়ে মধু আহরণ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ইতিমধ্যে মৌয়ালরা রেঞ্জ কার্যালয়ের ঘাটে নৌকা নিয়ে ভিড় করছেন।

আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী মধু আহরণ মৌসুমের এ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। 

ঘ্রাণ ও স্বাদে অতুলনীয় সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করতে ‘জীবনবাজি’ রাখতে হয় মৌয়ালদের। এতদিন নদীতে কুমির আর ডাঙায় বাঘের ভয় ছিল তাদের। কিন্তু এবার যুক্ত হয়েছে বনদস্যুদের ভয়। মৌয়ালরা বলছেন, কয়েকটি দস্যু দল বনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বনজীবীদের অপহরণ করে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। 

পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হচ্ছেন তারা। তাই এবার মধু আহরণে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন মৌয়ালরা। এতে যেমন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, তেমনি জীবিকা সংকটে পড়তে পারেন হাজারো মৌয়াল।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হবে, যা চলবে টানা দুই মাস। এ বছর সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সুন্দরবন থেকে ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টালে। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়। আর ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৬ কুইন্টালে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। ২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল মধু আহরণে নিয়োজিত ছিলেন, যা ২০২৫ সালে নেমে আসে প্রায় ৫ হাজারে।

তবে এবার আরও কমার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় মৌয়ালরা। কারণ হিসেবে তারা বনে দস্যুতা বৃদ্ধির কথা বলছেন। পাশাপাশি সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের একাধিক মৌয়াল জানান, সুন্দরবনে ডাকাতের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপহরণের ঘটনা বাড়ছে। এতে পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে মৌয়ালরা বনে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

শ্যামনগরের হরিনগরের সিংহড়তলী গ্রামের মৌয়াল আমজাদ হোসেন জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি বনে যান। আগে কখনো বাঘ-কুমিরের ভয় পাননি। তবে এখন জঙ্গল ডাকাতে ভরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একবার ধরা পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই এবার মধু কাটা বাদ দিয়ে এলাকায় দিনমজুরি করব।”

একই গ্রামের মৌয়াল নেসার আলী গাজী জানান, আগের তুলনায় এবার অনেক কম মৌয়াল বনে যাবেন। গতবার তারা সাতজন একটি নৌকায় গিয়েছিলেন। এবার ডাকাত আতঙ্কে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিতে হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জের মৌখালী গ্রামের মৌয়াল বশির আলী মোড়ল বলেন, বাপ-দাদার পেশা হলেও এখন তা ছাড়ার কথা ভাবছেন। আগে নির্বিঘ্নে মোম-মধু সংগ্রহ করা গেলেও এবার ডাকাত আতঙ্কে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখালী গ্রামের মৌয়াল আবুল সানা বলেন, “মধু সংগ্রহ আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু এখন বনে গেলে জীবন নিয়ে ফিরতে পারব কি না সেই ভয় সবসময় কাজ করে। ডাকাতদের হাতে পড়লে সব হারাতে হয়, ঋণের বোঝা নিয়ে ফিরতে হয়।”

অন্যদিকে, অনেকেই অভিযোগ করছেন বনে নিরাপত্তা জোরদারে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই। মাঝে মাঝে অভিযান চললেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না বলে দাবি তাদের।

বন বিভাগ জানিয়েছে, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে মৌয়ালদের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, মৌয়ালদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। বনাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এএন

Link copied!