ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও সংবিধান সংস্কারে রাজপথে অনড় জামায়াত

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও সংবিধান সংস্কারে রাজপথে অনড় জামায়াত
গাইবান্ধায় জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশ। ছবি: আমার সংবাদ

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে নির্বাচন পরবর্তী এক নতুন উত্তাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে আইনি রূপ দেওয়ার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট বিভাজন। 

শনিবার গাইবান্ধার ডেভিড কোম্পানীপাড়ায় অবস্থিত দারুল আমান ট্রাস্ট মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক দায়িত্বশীল সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সাবেক মিত্র বিএনপির প্রতি একরাশ ক্ষোভ, সরকারের প্রতি কিছু জরুরি দাবি এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সংসদীয় কাঠামোয় চিরস্থায়ী করার দৃঢ় প্রত্যয়।

আব্দুল হালিম তার বক্তব্যের শুরুতেই দলের কৌশলগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী কেবল নির্বাচনের জন্য রাজনীতি করে না, বরং একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে। তার মতে, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কেবল একটি কাগুজে দলিল নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।

তিনি ঘোষণা করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সংবিধান সংস্কারের জন্য জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রাম এখন দ্বিমুখী হবে। তারা একদিকে সংসদের ভেতরে জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলবেন, অন্যদিকে রাজপথে আন্দোলন ও জনমত গঠনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবেন। এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, জামায়াত কেবল সংসদীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা রাজপথে নিজেদের শক্তির মহড়া দেওয়ার পাশাপাশি আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে যাবে।

সমাবেশে আব্দুল হালিমের বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সমালোচনা। একসময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দলের মধ্যে যে আদর্শিক ও কৌশলগত দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা আব্দুল হালিমের বক্তব্যে ফুটে ওঠে।

তার দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে বিএনপি অত্যন্ত ঘটা করে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করলেও এখন তারা এর আইনি স্বীকৃতির প্রশ্নে টালবাহানা করছে। বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের আগে বিএনপি বড় বড় সংস্কারের কথা বলেছিল, কিন্তু ভোট শেষে ক্ষমতার সমীকরণে এসে তারা সেই প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলতে বসেছে। জামায়াত নেতার মতে, সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির এই ধীরে চলো নীতি মূলত পুরনো ব্যবস্থাকেই জিয়ে রাখার একটি কৌশল।

কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, সাম্প্রতিক জনদুর্ভোগ নিয়েও সমাবেশে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দেশে ক্রমবর্ধমান হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং তীব্র জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন আব্দুল হালিম।

তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব। জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে এই সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

২০২৪ সালের ছাত্র জনতার জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করে আব্দুল হালিম বলেন, হাজারো শহীদের রক্ত এবং অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তাকে বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, যতক্ষণ না সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে বৈষম্য দূর করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শহীদের আত্মা শান্তি পাবে না।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জামায়াতের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি পচা গলা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না।

গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আয়োজনে এই সমাবেশটি ছিল মূলত নির্বাচন পরবর্তী মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির এবং গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম। সমাবেশটি রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এখানে জামায়াতের বেশ কয়েকজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেছ এবং কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম। এই বৃহৎ উপস্থিতি জানান দিচ্ছে যে, উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে গাইবান্ধা অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। সংসদ সদস্যদের এই জমায়েত প্রমাণ করে যে, স্থানীয় পর্যায়ে জনমত গঠনে জামায়াত বেশ সফল।

আব্দুল হালিমের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে সরকারের ওপর চাপ, অন্যদিকে প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপির সাথে দূরত্বের ইঙ্গিত, সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের একটি স্বতন্ত্র তৃতীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতির দাবি আগামী দিনগুলোতে জাতীয় সংসদের ভেতরে বড় ধরনের উত্তাপ ছড়াবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াত যদি রাজপথ এবং সংসদ, উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকতে পারে, তবে তা দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

পরিশেষে আব্দুল হালিমের বার্তাটি ছিল পরিষ্কার, সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরার সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জামায়াতের এই অবস্থানকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং সংসদের ভেতরে এই দাবিগুলো কতটা জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়।

জেএইচআর

Link copied!