ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই

দৃষ্টিহীনতা জয় করে দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে নিয়মিত মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সেই প্রবীণ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা পরলোকগমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১২০ বছর। 

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। সোমবার সকাল ৯টায় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান আব্দুর রহমান। দৃষ্টিহীন হওয়ার ৬ বছর পর বড় ছেলের সঙ্গে পবিত্র হজ পালন করেন তিনি। দেশে ফিরে নিজের ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং জমিটি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। এরপর থেকে নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিলে তিনি নিজেই এক অভিনব বুদ্ধি বের করেন। তার পরামর্শে ছেলেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার পাশে দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন। সেই দড়ি ও বাঁশ ধরে লাঠির সাহায্যে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কারও সাহায্য ছাড়াই তিনি একা মসজিদে যাতায়াত করতেন। তার এই অদম্য ধর্মপ্রাণতা ও মনোবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

মরহুমের ছেলে স্কুল শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, তার বাবা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ধর্মের পথে অবিচল ছিলেন। দৃষ্টিহীনতা তাকে কখনও ইবাদত থেকে দূরে রাখতে পারেনি।

আব্দুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, “তিনি বড়াইগ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পথে তার এই অক্লান্ত পরিশ্রম বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।” স্থানীয় এলাকাবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

জেএইচআর

Link copied!