ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

১৩ মে টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক দিন

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল

মে ১৩, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

১৩ মে টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক দিন

আজ ভয়াল ১৩ মে, টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এক শোকাবহ দিন। আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৯৬ সালের এই দিনে ভয়াবহ এক টর্নেডো কেড়ে নিয়েছিল শত শত প্রাণ, ধ্বংস করে দিয়েছিল হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও জনপদ। ক্ষণস্থায়ী হলেও ভয়াবহ শক্তিশালী ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে টাঙ্গাইল জেলার পাঁচটি উপজেলা- গোপালপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, বাসাইল এবং সখীপুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সরকারি হিসাবে ২৩৭ জন এবং বেসরকারি হিসাবে আরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৮৫ হাজার ঘরবাড়ি, ৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৭টি মসজিদ এবং ১৪টি মন্দির। অনেক পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়- আজও যাদের স্মৃতি এই অঞ্চলের মানুষের মনে গেঁথে আছে গভীর দুঃখ ও বেদনার চিহ্ন হয়ে।

টর্নেডোটি ১৯৯৬ সালের ১৩ মে, সোমবার বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রাম থেকে শুরু হয়ে আলমনগর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম অতিক্রম করে। মাত্র ২-৩ মিনিট স্থায়ী হলেও এতে গোপালপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বরভিটা, বরখালী, মির্জাপুর, জয়নগর, আলমনগর, দিঘলআটা, বরশিলাসহ ১৬টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে প্রাণ হারান ১০৪ নারী-পুরুষ-শিশু। ফসলের জমি, গবাদিপশু এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

একই দিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কালিহাতীর রামপুর ও কুকরাইল গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোতে প্রাণ হারান আরও ১০৫ নারী-পুরুষ-শিশু। যাদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। অনেককে দাফন করতে হয় গণকবরে।

বাসাইল উপজেলার মিরিকপুরে তখন ছিল ধান কাটার মৌসুম। বহিরাগত শ্রমিকদের একটি দল মিরিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদ্যালয়টি টর্নেডোর ছোবলে বিধ্বস্ত হলে অনেকেই সেখানে চাপা পড়ে প্রাণ হারান। পরদিন তাদের মৃতদেহ খাল, পুকুর ও বিল থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছিল সেদিনের বাতাস।

বাসাইল উপজেলার প্রায় ১৭টি গ্রাম এবং প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রায় তিন হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। শত শত গবাদিপশু প্রাণ হারায়, ধ্বংস হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নলকূপসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আজও টাঙ্গাইলের ওইসব এলাকার মানুষ আকাশে কালো মেঘ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রতি বছর ১৩ মে স্মরণে স্থানীয়ভাবে আয়োজন করা হয় দোয়া মাহফিল, প্রার্থনা, কাঙালিভোজ ও স্মরণসভা। এবারও গোপালপুরের আলমনগর, কালিহাতীর রামপুর খামারবাড়ি এবং বাসাইলের মিরিকপুরে এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

এএন

Link copied!