ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সার্কুলার ইকোনমি হতে পারে সর্বোত্বম কৌশল

মো. আখতারুজ্জামান

মো. আখতারুজ্জামান

জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সার্কুলার ইকোনমি হতে পারে সর্বোত্বম কৌশল

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় সার্কুলার ইকোনমি (চক্রাকার অর্থনীতি) একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী ধারণা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদন, ব্যবহার এবং বর্জ্য ফেলে দেওয়ার যে রৈখিক (লিনিয়ার) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সার্কুলার ইকোনমি তার পরিবর্তে পুনর্ব্যবহার, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ওপর চাপ কমে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় সার্কুলার ইকোনমির কার্যকর প্রয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।

পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও বর্জ্য পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।

সার্কুলার ইকোনমির অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো-পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নতুন পণ্য উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম শক্তি ব্যয় হয়। শক্তির ব্যবহার কমলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও হ্রাস পায়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে নতুন কাঁচামালের চাহিদা কমে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ হ্রাস পায় এবং মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়। বন উজাড়, খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারও কমে আসে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হয়।

বর্তমানে অপরিকল্পিত শিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক পদার্থ ও প্লাস্টিক দূষণের কারণে দেশের মাটি, নদী, খাল, জলাশয় এবং সুন্দরবনসহ গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সার্কুলার ইকোনমির মাধ্যমে বর্জ্যের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং পুনর্ব্যবহারের হার বৃদ্ধি করা গেলে এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে বন, নদী, জলাভূমি ও উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে সার্কুলার ইকোনমি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। সরকারকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।

এ ছাড়া নাগরিকদের মধ্যে বর্জ্য আলাদা করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশীয় পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আধুনিক রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা, সহজ ঋণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশীয় শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সার্কুলার ইকোনমির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ ইতোমধ্যে এই মডেল সফলভাবে বাস্তবায়ন করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশও সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, সার্কুলার ইকোনমি কেবল একটি অর্থনৈতিক ধারণা নয়; এটি টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার একটি কার্যকর কৌশল। এর সফল বাস্তবায়ন দেশে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদের সাশ্রয়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাই এখনই সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার ইকোনমির বিস্তার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

লেখক:
মো. আখতারুজ্জামান
নির্বাহী পরিচালক (অব.), তুলা উন্নয়ন বোর্ড
উপদেষ্টা (মাননিয়ন্ত্রণ), সুপ্রীম সিড কোম্পানি লিমিটেডি

এম জি
 

Link copied!