রাকিবুল হাসান, রাজশাহী
মে ১৫, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
রাজশাহী মহানগরীতে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক হোটেলের পাওনা টাকা দাবি করায় মালিককে প্রাণনাশের হুমকি ও ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ‘হক’স ইন’-এর স্বত্বাধিকারী এনাজুল হক অমি।
শুক্রবার বেলা ৪টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অমি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অমি জানান, মহানগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাবা মৃত এনামুল হকের মালিকানাধীন ‘হোটেল হক’স ইন’-এর পাশেই ‘জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ’ লিমিটেড ২১ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করছে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে নির্মাণকাজ করার ফলে হোটেলের ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গত ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) বরাবর অভিযোগ করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী হোটেলের সংস্কার ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগী অমি অভিযোগ করেন, ভবন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত টাকার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট ১০ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা দিতে দীর্ঘ সময় ধরে গড়িমসি করছে। গত ১৩ মে ভবন কর্তৃপক্ষ পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করলে অমি পাওনা টাকা দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা চাওয়ার জেরে অভিযুক্ত তুহিন (৪৫) এবং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান (৪৪) তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অমি আক্ষেপ করে বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার ন্যায্য পাওনা টাকা চাওয়ায় আমাকে চাঁদাবাজ সাজানোর চেষ্টা চলছে। প্রথমে তুহিন সাহেব দাবি করলেন আমি চাঁদা চেয়েছি, এরপর তিনি আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ‘অপহরণের নাটক’ সাজিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই ভবন কর্তৃপক্ষ এই ভিত্তিহীন নাটক সাজিয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন ভাঙাসহ রাস্তা এবং হোটেলের ক্ষতি সাধনের বিষয়টি নিয়ে আরডিএকে আবারও লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে এবং বকেয়া টাকা উদ্ধারের দাবিতে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অমি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ’-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তুহিন বলেন, অমি আরডিএতে অভিযোগ দিয়ে আমার কাজ বন্ধ রেখেছিল, এ কারণে তাকে আমি টাকা দিয়েছি। তবে সমঝোতার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন টাকা দিলেন এবং আগে কেন আইনি ব্যবস্থা নেননি এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
অন্যদিকে ‘জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ লি:’-এর অন্য পার্টনার আব্দুল সালাম তুহিন হোটেলের ক্ষতিপূরণের চুক্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অমিকে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা দেওয়ার একটা চুক্তি হয়েছিল। পরে কিছু টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা দেওয়া নিয়ে ঝামেলা পাকে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এনাজুল হক অমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের জান-মালের নিরাপত্তা এবং মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নিজের সামাজিক সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান।
জেএইচআর