আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ২১, ২০২৬, ১২:২৯ এএম
মেয়েডা মারা গেছে এক বছরের বেশি হইছে। বিচারে আসামির ফাঁসি হইছে সেও এক বছর হলো। এখনো অপেক্ষায় আছি, কবে আমার আছিয়ার খুনিদের ফাঁসি হবে। এদিকে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। তারে সামলাব, নাকি রায় কার্যকর করার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরব! বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার বাদী আয়েশা খাতুন।
বিচারিক আদালতে মামলার রায় ঘোষণা হলেও হাইকোর্টে আপিলের ঘুরপাকে থমকে আছে মামলার গতি। প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এক বছর ধরে ঝুলে রয়েছে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে আছিয়াদের টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট্ট ঘরে এখন শুধুই শূন্যতা। আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক বলা হইছে, কিন্তু এই এক বছর কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। আমরা যখন অপেক্ষা করতেছি আছিয়ার হত্যাকারীর কবে ফাঁসি হবে, তখন জেলে বসে সরকারি খাবার খাচ্ছে আসামি। এই অবস্থা একজন মা কী করে সহ্য করতে পারে। তিনি জানান, একটি সংগঠন থেকে দেওয়া গাভির দুধ বিক্রি করে এখন কোনো রকমে তাঁদের সংসার চলছে।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে আছিয়ার বোন ফাতেমার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হলে আট দিন পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যায় শিশুটি। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন প্রশাসন দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিলেও নিম্ন আদালতে দ্রুত ফাঁসির রায়ের পর উচ্চ আদালতে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে সাজাপ্রাপ্ত হিটু শেখের মা রোকেয়া বেগম এখনো তাঁর ছেলেকে নির্দোষ দাবি করছেন। ঘটনার পর এলাকাবাসীর গুঁড়িয়ে দেওয়া বসতভিটায় এখন খুপড়ি ঘর বানিয়ে থাকছেন তাঁরা।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল জানান, হিটু শেখের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। তারা আশা করছেন দ্রুত এই আপিল নিষ্পত্তি হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেল আহমেদ জানান, আপিলের কার্যক্রম এখন ঢাকায় চলছে এবং সবশেষ শুনানি হয়েছিল গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর।
বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, আছিয়ার মতো একটি চাঞ্চল্যকর নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামির ফাঁসির রায় এখনো কার্যকর না হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। বিচার কার্যক্রমের এমন দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
জেএইচআর