জহিরুল হক রাসেল, কুমিল্লা
মে ২৫, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতি ছিল। তাদের সাতবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তারা প্রাইভেটভাবে টিকা কিনে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেছিল। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় হাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার এখন ১২২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যেসব ১৮টি উপজেলায় প্রথম ধাপে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছিল, সেখানে হামের সংক্রমণের হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে স্বাধীন তদন্ত চাইছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যদি ১০ জন মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েও হামে সংক্রমণে মায়ের বুক খালি হওয়া থামাতে না পারি, তাহলে কি আমি রক্ষা পাব? শুধু শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো হামে আক্রান্ত শিশুদের রক্ষা করা এবং কোনো মায়ের বুক যেন সন্তান হারানোর বেদনায় খালি না হয়, তা নিশ্চিত করা।
হামের টিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দুই কোটির বেশি শিশুকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও আমরা বসে থাকিনি। সারা দেশের মেডিকেল সেন্টারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব শিশু এখনও হামের টিকা পায়নি তাদের খুঁজে খুঁজে টিকা দিতে। দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে ভুল থাকতে পারে। তাই শুধু পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে আমরা সবাইকে টিকার আওতায় আনতে চাই।
এর আগে মন্ত্রী কুমিল্লা সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যার কথা শোনেন, খাবারের মান যাচাই করেন এবং রোগীদের অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ১০টি জেলায় পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর সেবা, অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করেছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ আইসিইউ চালু করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজা হাসান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এম জি