মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
জুন ৮, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের যৌথ তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে মহেশপুর উপজেলার ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহল দল রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
গোপালপুর, মাঠিলা, মগধাসপুর, পাকরাইল, বাগাডাঙ্গা ও খোশালপুরসহ স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাজুড়ে বিজিবি, আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং স্থানীয় গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) প্রায় ৭০ কিলোমিটার সীমান্তের দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশে এখনো কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় যাদবপুর সীমান্তে ৪-৫ জনের একটি দল অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয়। আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায় বিএসএফের প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট দিয়ে ঢোকানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি, আনসার সদস্য ও স্থানীয় জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে সেই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। স্থানীয় জনগণ, আনসার-ভিডিপি সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির এই সমন্বিত ও অব্যাহত তৎপরতায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার অনুভূতি অনেক বেড়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত-সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় এই যৌথ নজরদারি, টহল ও প্রতিরোধ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এএন