নোয়াখালী প্রতিনিধি
জুন ১৩, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক নারীকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা মো. সফিকের (৩৮) বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই গ্রামের মো. খলিল ড্রাইভারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একই এলাকার মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।
ভুক্তভোগী খুকির অভিযোগ, তাঁর স্বামী গত দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও বেতন পাননি। বেতন চাইতে গেলে সফিক দাবি করেন, তাঁর স্বামী ইয়াবা সেবন করে সব টাকা খরচ করেছেন। ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এরপর স্বামীকে সফিকের কাজে যেতে নিষেধ করায় সফিক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে বাড়ির পাশের নদীতে বসানো একটি রিং জাল সফিক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় সফিক প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে তাঁর স্বামীকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তাঁর ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও মারধর শুরু করলে স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে খুকিও মারধরের শিকার হন। খুকির দাবি, সফিক তাঁর প্রজেক্টে মাদকের আসর বসান এবং তাঁর স্বামীকে দিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করাতেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সফিক বলেন, খুকির পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে খুকির স্বামী তাঁর বোনের বসত ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা এবং মাছ চুরি করেন। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার পথে খুকি ও তাঁর স্বামী উল্টো তাঁর ওপর আক্রমণ করে নাক ফাটিয়ে দেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর