ইলিয়াছ সুমন, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)
জুন ১৩, ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ নদীভাঙনের কারণে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী ৩৩ কেভি সৈয়দপুর-বাউরিয়া সাবমেরিন কেবলের একটি অংশ গত তিন মাস ধরে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের প্রায় ১৫ দিন পর কেবলটির সুরক্ষায় অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শনিবার বিকেলে বাউরিয়া ইউনিয়নের সন্দ্বীপ চ্যানেল-সংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকায় পাউবো জরুরি ভিত্তিতে এই কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে কেবলের দুই পাশে বাঁশের খুঁটি স্থাপন, কেবলের ওপর মাটি ভরাট এবং তার ওপর জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের দুটি সাবমেরিন কেবল বর্তমানে দৃশ্যমান অবস্থায় রয়েছে। কেবলের ওপর থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় শিশু-কিশোরসহ উৎসুক মানুষ কেবলের ওপর ওঠানামা করায় এর নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কেবলের সুরক্ষা এবং ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই পাউবো এই অস্থায়ী সুরক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার মাছুম হোসাইন বলেন, সাবমেরিন কেবলের ওপর প্রায় ২২ ফুট মাটির আবরণ ছিল। নদীভাঙনের কারণে সেই মাটি সরে গিয়ে কেবল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। তবে এই কাজে মোট কতটি জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা কেবলটির স্থায়ী সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, অব্যাহত ভাঙনের ফলে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জেএইচআর