মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
জুন ২৬, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্যকে ঘিরে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে স্থানীয়দের হাতে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার দাবি, অন্যদিকে অপহরণ, চাঁদা দাবি এবং পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ। পরস্পরবিরোধী এসব বক্তব্যে প্রকৃত ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য সাইদুর রহমান গত ২৫ জুন রাতে বিকাশে টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে বাজারে যাওয়ার পথে সারঙ্গদিয়া এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে নির্জন একটি ইটভাটা এলাকায় নিয়ে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ফায়ারকর্মীর ব্যাচমেট ইমরান।
ভুক্তভোগীর সহকর্মী ও ব্যাচমেট ইমরান দাবি করেন, সাইদুর রহমানকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার হাতে জোরপূর্বক ইয়াবা ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ইমরান বলেন, “এলাকাটি অন্ধকার ছিল। তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পেছন থেকে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে তার হাতে ইয়াবা ধরিয়ে ভিডিও করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে এভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সে এবং আমি ধূমপানও করি না। এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।”
অন্যদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সারঙ্গদিয়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবু সাঈদ। তিনি দাবি করেন, সাইদুর রহমানকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
শেখ আবু সাঈদ বলেন, “আমরা তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করেছি। এর আগেও তার কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল। সে নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছে। আমাদের কাছে অডিও ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। এটি ষড়যন্ত্র, নাকি সত্যিই তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
এদিকে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অলি মিয়া দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, স্থানীয় জনগণের মাধ্যমে ইয়াবাসহ একজনকে আটকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি বলেন, “ফায়ার ফাইটার সাইদুর রহমানকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
তবে অপহরণ, চাঁদা দাবি ও জোরপূর্বক মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগের বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ ঘটনাটিকে মাদকবিরোধী জনসচেতনতার ফল বলে দাবি করছে, অন্য পক্ষ এটিকে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সাজানো ঘটনা বলে অভিযোগ তুলছে।
বর্তমানে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে, ফায়ার সার্ভিস সদস্য সাইদুর রহমান প্রকৃতপক্ষে মাদকসহ আটক হয়েছেন, নাকি তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
এম জি