সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
জুন ২৯, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ফরিদপুরের প্রধান অর্থকরী ফসলই হচ্ছে পেঁয়াজ। এই জেলার মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে। যুগ যুগ ধরে এখানকার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে তাঁদের জীবনমানের উন্নয়ন করে আসছেন। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ আবাদ করে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
একদিকে বাজারে এবার পেঁয়াজের দাম একেবারেই নেই, অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে পেঁয়াজ ঘরেও রাখা যাচ্ছে না, পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় পেঁয়াজ এখন কৃষকের গলার কাঁটা। কোনো উপায় না পেয়ে অনেক কৃষককে তাঁদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পেঁয়াজ বস্তা ভরে এনে ডোবার পানিতে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার নানা জাতের বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ। এই হাইব্রিড পেঁয়াজ কোনোভাবেই ঘরে রাখা যাচ্ছে না। এমনকি সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে যে ঘরগুলো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় সেখানেও পেঁয়াজ রাখা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত গরম আর সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পেঁয়াজ দ্রুত পচে যাচ্ছে। আর বাজারে পেঁয়াজের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচও ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা।
সালথার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকারি এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হওয়ায় তাঁর প্রায় ৩৫০ মণ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে সেগুলো পুকুরে ফেলতে হয়েছে। দাউদ মাতুব্বর নামে আরেক কৃষক বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অথচ উৎপাদন খরচই ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। সংরক্ষণ ব্যয় যোগ হলে পুরোপুরি লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষক আবুল মাতুব্বর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষকের এই দুর্দশায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। আগামীতে ন্যায্যমূল্য না পেলে পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন অনেকে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে দেওয়া এয়ারফ্লো মেশিন অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারিগরি সমস্যার কারণে সংরক্ষিত পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে পচনের ঘটনা বাড়ছে। কৃষকরা আরও জানান, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা, যা দিয়ে কোনোভাবেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তায় বিগত অর্থবছরগুলোতে জেলায় ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ৭০০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না।
জেএইচআর