ফরিদপুর প্রতিনিধি
জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের প্রতিবাদ এবং স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর সদরের কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ। জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের সম্মান ও পদ ফিরে পেতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের কাছে আকুতি জানিয়েছেন এই প্রবীণ শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালমারী বাজারের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর প্রশাসনিক হেয়ালিপনার বলি হয়ে আমি আজ চাকরি জীবনে ফিরতে পারছি না। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রেখে আমাকে এক গভীর অন্ধকারের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর কলেজের শিক্ষকদের একটি অংশের উস্কানিতে বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থী ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে। তারা তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মনগড়া অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন কলেজ প্রশাসন ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও পরবর্তী সময়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে কোনো কমিটিও গঠন করা হয়নি এবং বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত করার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিধান থাকলেও সুকৌশলে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগে ঝুলে যায় তাঁর চাকরি জীবন। একপর্যায়ে তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করে দেওয়া হয়। আয়ের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তীব্র জীবন-জীবিকার সংকটে পড়েন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। হাইকোর্টের আদেশে তিনি চাকরি ও বেতন-ভাতা ফিরে পেলেও কলেজের শিক্ষক আর ম্যানেজিং কমিটির একটি অংশের যৌথ সিন্ডিকেট তাঁকে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসতে দিচ্ছে না। উল্টো তারা উচ্চ আদালতে পাল্টা রিট করে আবারও তাঁর পদে যোগদানের বিষয়টি আটকে দিয়েছে।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে ফরিদ আহমেদ বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমার নীতি, আদর্শ ও সততায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শিক্ষকদের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসিয়েছে। তারা আমার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে এবং বাসা-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
এই অন্যায়ের জন্য তিনি কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, মো. আজহার আলী, প্রভাষক সৈয়দা দিল আশরাফি, সেকশন অফিসার কামরুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক মানিক হোসেনকে দায়ী করে তাঁদের বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে রাষ্ট্রের কাছে স্বপদে ফেরার আকুতি জানিয়ে এই বৃদ্ধ শিক্ষক বলেন, আমি এখন বয়সের ভারে ক্লান্ত ও বৃদ্ধ। আমার চাকরির বয়স আর মাত্র দুই মাস বাকি আছে। এই মুহূর্তে চাকরিটা ফিরে না পেলে অবসরজনিত আইনগত প্রাপ্য আর্থিক সুবিধাগুলো নিয়ে কঠিন সমস্যার মুখে পড়তে হবে। তাই জীবনের শেষ সময়ে এসে সম্মানের সাথে অবসরে যাওয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সুনজর কামনা করছি।
জেএইচআর