সাইফুল ইসলাম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ঘিওর-কফিলউদ্দীন দরজী সড়ক’ থেকে গুড়হাট ভূষিপট্টি পর্যন্ত রাস্তাটি এখন খানাখন্দে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এই রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ঘিওর বাজারের ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়া এবং এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের জানুয়ারিতে ঘিওর কফিলউদ্দীন দরজী সড়ক থেকে কাঠপট্টি, ভূষিপট্টি ও শরিষাপট্টি পর্যন্ত ইটসোলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো আর পূর্ণাঙ্গ মেরামত করা হয়নি। এ ছাড়া লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে গুড়হাট থেকে কুস্তা ব্রিজ পর্যন্ত যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল, তাও বর্তমানে ভরাট হয়ে অকেজো পড়ে আছে।
এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তেল ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়ার বাড়ির পেছন থেকে কুস্তা ব্রিজ পর্যন্ত বহু ঘরবাড়ি ও মূল রাস্তাটি ইছামতী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তখন থেকেই শরিষাপট্টির তেল ব্যবসায়ী অরুন সাহার দোকানের সামনের রাস্তা দিয়ে সরাসরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত কাঠপট্টি, গুড়হাটা এবং শরিষাপট্টি সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব খানাখন্দে পানি জমে পচা কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায়, যা পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রাক, অটো টেম্পু, রিকশা-ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন।
ভোগান্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অটোবাইক চালক জুবায়ের, সমীর ও কাউছার বলেন, এই সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষকে এই ভোগান্তি মাড়াতে হচ্ছে। ভাঙা রাস্তার কারণে প্রতিদিন গাড়ি নষ্ট হচ্ছে।
ঘিওর বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী পাঞ্জু শাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঠপট্টি ও ভূষিপট্টি রাস্তাটি মেরামত না করায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে ওঠার দশা। পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া করতে দ্বিগুণ খরচ ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
সড়কটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, কফিলউদ্দীন দরজী সড়ক থেকে ভূষিপট্টি-গুড়হাটা রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা আসলেই খুব খারাপ। বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা পুরোপুরি অবগত আছেন এবং আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাজারের এই সড়কটির সংস্কারকাজ হাতে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাতিশা-তুল ইসলাম বলেন, "সড়কটি জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
তবে প্রতিদিনের এই নরকযাতনা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
জেএইচআর