পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার উদ্যোগে বন্যাকবলিত চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ৫০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, রাসুলাবাদ, ডেঙ্গাকাটা, পহরচাঁদা, পাহাড়তলী ও মচনিয়াকাটা এবং পেকুয়া উপজেলার টইটং, পেকুয়া পৌরসভা, দক্ষিণ মেহেরনামা ও বাঘগুজারা এলাকার মুসলিম ও অমুসলিম বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কয়েকটি পরিবারকে নগদ অর্থসহায়তাও দেওয়া হয়।
এর আগে প্রথম ধাপে বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজারো বন্যাকবলিত পরিবারের কাছেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
পটিয়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ার মুহতামিম মুফতি একরাম হোসাইন অদুদীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম আল্লামা জাকারিয়া আজহারী, নাজেমে তালিমাত মুফতি জসিম উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা হাফেজ মাসুম, মাওলানা সলিমুদ্দিন মাহদী কাসেমী, মাওলানা আনিসুল হক, মাওলানা শহীদুল ইসলামসহ মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা, খাদেম ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।
এ সময় চকরিয়া পাহাড়তলী তা'লীমুল কুরআন মাদ্রাসা এবং পেকুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খাদ্য সহায়তা বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে মুফতি একরাম হোসাইন অদুদী বলেন, দুর্যোগ-দুর্বিপাকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সবার সহযোগিতায় আরও বেশি অসহায় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ইতিহাস শুধু ইলম ও দীনের খেদমতেই সীমাবদ্ধ নয়, মানবতার সেবাতেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যা এবং জাতীয় সংকটের প্রতিটি সময়ে জামিয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান ত্রাণ কার্যক্রমও সেই মানবিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতারই অংশ।
এম জি