কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্রে ভুল, পাঠদানে অনিয়ম এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলার অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর কক্ষ ও দুটি শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুসরণ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেবাসের বাইরে থেকেও প্রশ্ন করা হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এসব বিষয় নিয়ে কয়েক দিন ধরেই তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে তিনি অনিয়মিত। পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই নম্বর দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, কোনো শিক্ষার্থী ৫০ নম্বরের উত্তর লিখলেও খাতা ঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে ৮০ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন, আছির, ইয়াছিন আরাফাত ও আশরাফুলসহ কয়েকজন বলেন, স্যার নিয়মিত ক্লাস নেন না। পরীক্ষার খাতাও ঠিকভাবে দেখেন না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতেই তারা শ্রেণিকক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ফ্যান, লাইট, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের কিছু প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে। প্রশ্নপত্রের ভুলের দায়ও তিনি এড়াতে পারেন না। তবে শিক্ষার্থীদের তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করাও সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের এক ভাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিভাবক ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে রসুলপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, সারা দেশে প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞান ও কৃষি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে মুদ্রণজনিত ভুল হয়েছে। আমার ক্লাস টিফিনের পর থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তখন উপস্থিত থাকে না। হাজিরা খাতা দেখলেই সেটি বোঝা যাবে। এছাড়া অফিসিয়াল কাজেও আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসিবুল আলম মির্জা বলেন, অভিযোগের খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক প্রশ্নপত্রের ভুলকে মুদ্রণজনিত ত্রুটি বলে জানিয়েছেন। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এম জি