ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

মাগুরায় স্কুলব্যাগের সূত্রে এক ঘণ্টায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

মাগুরায় স্কুলব্যাগের সূত্রে এক ঘণ্টায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার

সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১০ বছর বয়সী আয়েশা নূর। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে পড়ে পরিবার। পরে শহরের বাইরে নবনির্মিত ট্রাক টার্মিনালের পাশের একটি বাগান থেকে তার স্কুল ব্যাগ উদ্ধার হয়। সেই সূত্র ধরেই মাগুরা জেলা পুলিশের দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ফরিদপুরের কামারখালী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে।

সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া আয়েশা নূর মাগুরা সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আয়েশার বাবা শাহিন মালয়েশিয়া প্রবাসী। মা দীর্ঘ চার বছর ধরে মাগুরা শহরের কলেজপাড়া এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর নান্টুর বাসার চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকেন। সকালে প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে কেশব মোড় এলাকা থেকে মেয়েকে অটোরিকশায় মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন তিনি। এরপর থেকেই শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এদিকে সকাল প্রায় ৯টার দিকে মাগুরা নবনির্মিত ট্রাক টার্মিনাল-সংলগ্ন একটি মেহগনি বাগানে একটি স্কুল ব্যাগ দেখতে পান কৃষক নিতাই (৬৫)। জমিতে কাজ করতে গিয়ে তিনি ব্যাগটি উদ্ধার করে লক্ষীকান্দর পূর্বপাড়া এলাকার মেসার্স আসলাম ট্রেডার্সের মালিক আসলামের কাছে রেখে যান। পরে ব্যাগের ভেতরে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে আসলাম শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

আসলাম জানান, ব্যাগে থাকা নম্বরে ফোন করলে শিশুটির মা পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং জানান, তার মেয়ে সকালে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর নিখোঁজ রয়েছে। পরে তিনি এসে ব্যাগটি নিয়ে যান।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুর রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। সংবাদ পাওয়ার পরপরই মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করেন এবং জেলার বিভিন্ন ইউনিটকে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামার নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তি, মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য এবং আন্তঃজেলা সমন্বয় একযোগে কাজে লাগানো হয়। দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলার কামারখালী টোল প্লাজা এলাকার একটি স্থানে আয়েশার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া আয়েশা নূর জানায়, সেদিন তার মাদ্রাসায় যেতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। পথে একপর্যায়ে সে মাদ্রাসার আগে নেমে যায়। এরপর কী ঘটেছিল, সে পুরোপুরি মনে করতে পারছে না। পরে নিজেকে কামারখালীর একটি বাড়িতে দেখতে পায়। সেখান থেকে বের হয়ে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে।

শিশুটির মা বলেন, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু মাগুরা জেলা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পুলিশ সুপারের সরাসরি তদারকির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই মেয়েকে ফিরে পেয়েছেন। এজন্য তিনি জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের মতে, স্কুল ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনাটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে। তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল মাগুরা জেলা পুলিশের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের। এ ঘটনায় পুলিশ এখনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। শিশুটি বর্তমানে পরিবারের কাছে রয়েছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা বলেন, “নিখোঁজ শিশুর সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশের সব ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ফরিদপুরের কামারখালী এলাকা থেকে শিশুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সবসময় সতর্ক ও দায়িত্বশীল রয়েছে।”

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, কোনো শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়েশা নূরের ঘটনায় সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করায় তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

নিখোঁজ এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অল্প সময়ের মধ্যে উদ্ধার করে আবারও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে মাগুরা জেলা পুলিশ। আর এ অভিযানের নেতৃত্বে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সক্রিয় তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এএন

Link copied!