পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। পুরোনো ভবন অপসারণ শেষে নতুন ভবনের মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ পরিদর্শন করেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করে। এরপর থেকে ভবনের একটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে আসা হচ্ছিল। বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা বিলম্বিত হয়।
পরিদর্শন শেষে ডা. আবু তৈয়ব বলেন, আনুমানিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরোনো ভবনটি ভাঙতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এরপরই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে। ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা পাশের বেসরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পরিচালিত হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, মোহাম্মদ উল্লাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নতুন ভবনের কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছিল। পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ জোরদার হয়। তাঁর প্রচেষ্টায় অবশেষে নতুন ভবনের কাজ শুরু হচ্ছে। একসময় ধলঘাটসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেন। নতুন ভবন নির্মিত হলে এলাকাবাসী আবারও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন বলে আমরা আশা করছি।
এম জি