ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের অভাবনীয় অগ্রযাত্রা: রাজস্ব ও প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছরের রেকর্ড সাফল্য

আজিজুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো

আজিজুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের অভাবনীয় অগ্রযাত্রা: রাজস্ব ও প্রবৃদ্ধিতে পাঁচ বছরের রেকর্ড সাফল্য

বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত পাঁচ বছরে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব আয়, উদ্বৃত্ত এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অবদানের ক্ষেত্রে বন্দরটি এমন এক নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে, যা দেশের অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ হতে পারে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কৌশলী পরিকল্পনা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংস্থাটি তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়েছে।

গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ পাঁচ বছরে বন্দরের গড় রাজস্ব আয় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৩.০৮ শতাংশ। আয়ের এ ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি প্রমাণ করে যে, দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে বন্দরটি কত দ্রুত সেবা প্রদানের পরিধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। 

২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। 

তবে আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি চমক ছিল ২০২৪ সালে, যখন পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় রাজস্ব আয় একলাফে ২১.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের এ বিশাল সাফল্যের পেছনে কেবল আয় বৃদ্ধিই নয়, বরং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেবার মান ঠিক রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার সুনিপুণ কৌশলই এ সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৭.৫৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নীতি অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে। 

২০২৪ সালে ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬.৫০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা ছিল ৭.৬১ শতাংশ। আয়ের প্রবৃদ্ধি যেখানে দ্বিমাত্রিক ঘরে, সেখানে ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা আর্থিক ব্যবস্থাপনার এক অসাধারণ সাফল্য।

আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিট উদ্বৃত্তের পরিমাণ প্রতি বছরই আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সংস্থাটির গড় রাজস্ব উদ্বৃত্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮.৪২ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের উদ্বৃত্তের চিত্রে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকা যা সর্বোচ্চ। 

২০২৪ সালে ২ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ২ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। ২০২৫ সালের ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ উদ্বৃত্ত অর্থ বন্দরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্প এবং আধুনিকায়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কেবল নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিশাল অঙ্কের অর্থ জমা দিয়ে দেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নেও সহায়তা করছে। গত পাঁচ বছরে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভ্যাট, ট্যাক্স এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব মিলিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। 

কোষাগারে জমার বিভাজনে দেখা যায়, আয়কর বা ট্যাক্স ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ৩ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বছরের ব্যবধানে এ অবদানের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২১ সালে যেখানে ১ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতিতে বন্দরের সরাসরি আর্থিক অংশগ্রহণ ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসন ওমর ফারুক এ সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেবার মান উন্নত করা এবং একইসাথে অপচয় রোধ করা। এর ফলেই আমরা প্রতি বছর বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্জন করতে পারছি। 

বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, ডিজিটাল অটোমেশন এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া পতেঙ্গা টার্মিনালসহ অন্যান্য সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি জাহাজগুলো আরও দ্রুত পণ্য খালাস করতে পারছে, যা পরোক্ষভাবে বন্দরের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এ আর্থিক দৃঢ়তা ভবিষ্যতে বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের মতো বৃহৎ বিনিয়োগে সহায়ক হবে। আয়ের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বন্দরটি নিজস্ব অর্থায়নেই বড় ধরনের আধুনিকায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এ অভাবনীয় সাফল্য দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বন্দর যদি বর্তমানের এ প্রবৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা আর্থিক শক্তিশালী বন্দরে পরিণত হবে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের এ ৫ বছরের আর্থিক অগ্রযাত্রা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতারই প্রতিচ্ছবি। ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকার আয় এবং ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকার উদ্বৃত্তের এ নতুন রেকর্ড আগামী দিনে দেশের সমুদ্র অর্থনীতির পথচলাকে আরও সুগম করবে।

Link copied!