ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১০:২৯ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত

দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক-কর্মচারীদের লাগাতার ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় আন্দোলনরত সংগঠন ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।

সংগঠনটির দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত থাকবে। মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই ‘জনস্বার্থমূলক’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোনো কোম্পানির কাছে ইজারা না দেওয়াসহ মোট চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল। শ্রমিকদের আপত্তির প্রধান জায়গা ছিল এনসিটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার প্রক্রিয়া। তাদের দাবি, এতে বন্দরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

ধর্মঘটের প্রথম দিনেই বন্দরের পণ্য ওঠানামা এবং ডেলিভারি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। জেটিতে জাহাজ আসা এবং কন্টেইনার খালাস বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল।

রোববার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিডার (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। 

তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে এনসিটি টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।

ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেননি। সংগ্রাম পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা বর্তমানে চারটি প্রধান সংকটের সমাধান চাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে কর্মচারীদের ওপর করা হয়রানিমূলক বদলি প্রত্যাহার, সাম্প্রতিক আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে দেওয়া সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল, গ্রেফতারকৃত কর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধ করা এবং প্রশাসনিক অন্যান্য বৈষম্য দূরীকরণ।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হয়, তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় হাজার হাজার কন্টেইনার খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এর পরপরই রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বন্দরের অচলাবস্থা দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজারমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্দোলনকারীদের এই পিছু হটা একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

আজ সকাল থেকেই বন্দরে স্বাভাবিক কাজ শুরু হয়েছে। ট্রাকে পণ্য লোডিং এবং জাহাজ থেকে কন্টেইনার খালাস কার্যক্রম পুনরায় গতি পেয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

এএন

Link copied!