community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪,

শেকৃবিতে হারিয়ে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

শেকৃবি প্রতিনিধি

শেকৃবি প্রতিনিধি

নভেম্বর ১৬, ২০২৩, ০৫:৪৫ পিএম


শেকৃবিতে হারিয়ে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

পহেলা অগ্রহায়ণ মানেই ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ। নবান্নকে ঘিরে আয়োজন হত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসব। ছিল শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কিন্তু এখন আর নেই। সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন দিবসের জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন হারিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( শেকৃবি)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর পহেলা অগ্রহায়ণ ( ১৬ নভেম্বর) ঘিরে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সর্বশেষ পহেলা অগ্রহায়ণ ঘিরে ক্যাম্পাসে নবান্ন ও পিঠা উৎসব আয়োজন করা হয়েছিল ২০১৯ সালে।  পিঠা উৎসবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক  সংগঠনগুলো তাদের নিজেদের স্টলে দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরত।

থাকত শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে বানানো পিঠা-পুলিসহ মুখরোচক খাবার। আয়োজন হত জাঁকজমকপূর্ণ র্যালি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতিমনা করতে ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়েছিল সাংস্কৃতিক সপ্তাহ। এটিও ২০১৯ সালের পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত সার্ক ট্যুর। নামমাত্র র্যালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ বিভিন্ন দিবস উদযাপন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে ডিবেটিং সোসাইটি, কিষাণ থিয়েটার, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বন্ধুসভা, সপ্তকসহ ২২ টি অনুমোদিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। দিন দিন সংগঠনগুলোতে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। সংস্কৃতি চর্চা থেকে দূরে সরে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে মনে করেন সংগঠনগুলোর নেতারা।

সাংস্কৃতিক সংগঠন কিষাণ থিয়েটারের সভাপতি জায়েদ বিন হান্নান বলেন, করোনার পর থেকে বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে আছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি দিবস পালন না হওয়া অত্যন্ত কষ্টের। পিঠা উৎসব কৃষি দিবসের একটি ঐতিহ্য। আমরা চাই কৃষির এ  ঐতিহ্য আবার চালু হোক।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পড়াশোনা যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি মনকে প্রফুল্ল রাখতে, নিজেদের বিকশিত করতে সাংস্কৃতিক চর্চা দরকার। নয়ত তারা অন্যদিকে ডাইভার্ট হয়ে যাবে।

সপ্তকের সভাপতি জামিউর রহমান সজিব বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসকে রিপ্রেজেন্ট করে। ফান্ড না থাকায় আমরা উদ্যোগ নিতে পারি না। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে আমরা সবসময় এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত। আর সাংস্কৃতিক সপ্তাহ এটি প্রতিটি ব্যাচের জন্য একটি সংস্কৃতি ছিল। ক্যাম্পাসকে এগিয়ে নিতে এগুলো চালু করা জরুরি।

বন্ধুসভার সভাপতি জিনিয়া রহমান ঐশী বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে কষ্ট করে বিভিন্ন কার্যক্রম বছরব্যাপী করার চেষ্টা করি। বড় বড় এ ধরনের অনুষ্ঠান হলে সবার মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়,  সবার মধ্যে বন্ডিং তৈরি হয়। ক্লাস, এসাইনমেন্টের চাপে ডিপ্রেশন চলে আসে। রিফ্রেশমেন্টের জন্য, ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য অনুষ্ঠানগুলো অব্যাহত রাখা উচিত।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো কেনো হচ্ছে না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এজন্য ইউজিসি থেকে কোন বাজেট দেয়না৷ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেও নবান্ন উৎসব এবার করা হয়নি। তবে এটি অবশ্যই করা উচিত। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে রশদ যোগায়। ডিসেম্বরে সাংস্কৃতিক সপ্তাহ করার বিষয়ে আমি ভিসি স্যারের সাথে কথা বলব।

এইচআর

Link copied!