ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

সারাদেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেলযোগাযোগ বন্ধ

রাবি প্রতিনিধি

রাবি প্রতিনিধি

জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

সারাদেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেলযোগাযোগ বন্ধ

রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে টিটিদের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ক্যাম্পাসের চারুকলা-সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী থেকে জানা যায়, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলেন তিনি। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টিটিরা টাকা আদায় করায় এর প্রতিবাদ করেন তিনি। এ জন্য তাকে পেছন থেকে গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যায় ৬-৭ জন টিটি। এরপর তার ঘাড়ে ও পিঠে উপর্যুপরি মারতে থাকে তারা। একপর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা।

আন্দোলনকারীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলো—অভিযুক্ত অপরাধীকে সশরীরে উপস্থিত করতে হবে; যেহেতু তিনি ঘুষ গ্রহণ করেছেন, তাই সেই অপরাধে তার প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি হিসেবে স্থায়ী বহিষ্কার এবং রেলে ভ্রমণকারী নাগরিকের ওপর হত্যাচেষ্টার কারণে রেল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে; সকল দূরপাল্লার ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে একটি যাত্রাবিরতি দিতে হবে।

ভুক্তভোগী ফোরকান উদ্দীন বলেন, ‘গতকাল রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলাম। ট্রেনে খেয়াল করি যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টিটিরা টাকা আদায় করছে। টাকা নিচ্ছে, কিন্তু রসিদ দিচ্ছে না। আমি তখন প্রতিবাদ করে টিটিদের বলি, রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু টিকিট ইস্যু না করে টাকা নিচ্ছেন কেন? সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ করে পেছন থেকে গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যায় ৬-৭ জন টিটি। এরপর আমার ঘাড়ে ও পিঠে মারতে থাকে। একপর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। আমি পড়ে গেলে হয়তো খারাপ কিছু হতো। আমার চশমাও ভেঙে গেছে। আমি অভিযুক্তদের শাস্তি চাই।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এক ভাইকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অন্যায় এবং প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আমরা রেল অবরোধ করেছি। কর্তৃপক্ষ আসবে এবং ঘুষ নেওয়ার দায়ে শাস্তি, মারধরের ক্ষতিপূরণসহ যথাযথ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে রাকসু। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে অবরোধস্থলে অবস্থান করছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আন্দোলনকে সমর্থন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

ফেসবুক পোস্টে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান লিখেছেন, ‘রেললাইন বন্ধ থাকবে। রেলওয়ে-সংশ্লিষ্ট লোকেরা নিজেরা আমাদের কাছে এসে এখন এটা সামলান। কাদের গায়ে হাত দিয়েছেন, ঠাহর তো করতে হবে। পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে রাবির এক শিক্ষার্থী ভাইকে অন্যায়ভাবে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের কাছে এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবে। নচেৎ রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দেখতে চাই।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এর আগেও জানা-অজানা এমন অনেক আচরণ রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা হয়েছে। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে কখনো রেলগুণ্ডারা বাঁকা চোখেও যেন না দেখে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। রাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দ এই রেললাইন সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবেন।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘গতকাল রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট চেকারেরা (টিটি) প্রচণ্ডভাবে মারধর করেছে। এরই প্রতিবাদে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। যাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে, আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোও আমাদের বিবেচ্য বিষয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করছি।’

এএন

Link copied!