ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
ইসি সানাউল্লাহ

হাদি হত্যাকাণ্ডের পরও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৬:০৯ পিএম

হাদি হত্যাকাণ্ডের পরও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে

সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হলেও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

রোববার নির্বাচন ভবনে তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক এবং পরবর্তী আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ও দলগুলোর মধ্যে কিছু উত্তেজনা ও বিরোধ থাকলেও সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সানাউল্লাহ বলেন, দলের ভেতরে, একাধিক দলের মাঝে ঝুটঝামেলা আছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন ঠিক রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। তিনি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। 

এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, তিন শত আসনের প্রার্থীরাই এখন নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

তবে নির্বাচন কমিশনের মতে, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, যারা আমাদের উৎসবমুখর নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে চান, তারা ব্যর্থ হবেন। উৎসবের পরিবেশ আবার ফিরে আসবে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মধ্যে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও পরোক্ষভাবে নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে স্বীকার করেছে ইসি। এ বিষয়ে সানাউল্লাহ জানান, বৃহত্তর জনআবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি দুষ্টচক্র এসব সহিংসতা ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্তত ২০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইসিকে আশ্বস্ত করেছে।

ময়মনসিংহে একজনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সহিংসতাগুলো নির্বাচন কমিশনের নজরে রয়েছে বলে জানান তিনি। জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফেরানো, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করা এবং তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে বাহিনীগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, র্যাব, ডিএমপি, এসবি, সিআইডি, ডিজিএফআই, এনএসআই ও এনটিএমসি–সহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাছ থেকে সাম্প্রতিক নাশকতার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, এসব ঘটনার সঙ্গে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনার সানাউল্লাহ আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মানবিক আচরণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউ কেউ সেই মানবিকতার অপব্যবহার করেছে। তাই এখন থেকে যারা সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যার মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা মানবিক, তাদের প্রতি আমরা মানবিক থাকব। কিন্তু যারা দস্যুতা ও ভ্যান্ডালিজম করতে চায়, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায় তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

ইএইচ

Link copied!